Published : 04 Aug 2025, 10:26 PM
চট্টগ্রামের রাউজান থানায় ১৫ বছর আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ আট আসামির সবাই খালাস পেয়েছেন।
সোমবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু হান্নান এ রায় দেন।
মামলা থেকে খালাস পাওয়া অন্যরা হলেন- মাওলানা সাব্বির, মো. মাহফুজুর রহমান, আবুল ফাত্তাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, সালাউদ্দিন ভুঁইয়া, আবুল কালাম ও মাওলানা নোমান।
এদের মধ্যে মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী একসময় ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নগরীর লালখান বাজারের জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামীয়ার (লালখান বাজার মাদ্রাসা) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
এই মামলায় খালাস পাওয়া আরেক আসামি মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান ঢাকার রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলারও আসামি ছিলেন।
মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর আইনজীবী আবদুস সাত্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় তিনজন সাক্ষ্য দেন। কিন্তু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। তাই আট আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত।”
আবদুস সাত্তার বলেন, “তখন রাউজানের রাবার বাগানে অভিযান চালিয়ে র্যাব যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিল, তারা এর এক-দুই মাস আগে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের অভিভাবকরা থানায় জিডি করেছিলেন। এমনকি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলেন।
“তারা একেকজন একেক এলাকার বাসিন্দা। অথচ দীর্ঘদিন পরে তাদের রাউজান থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার এজাহারে রাতভর গোলাগুলির কথা বলা হলেও সেখানে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এমনকি একটি গুলিও মেলেনি। এটা বানোয়াট মামলা।”
২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভোরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গোদার পাড় এলাকার দুর্গম রাবার বাগানে অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগের রাতে হাটহাজারীর আমান বাজার থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
সেদিন অভিযানের পর র্যাব জানিয়েছিল, রাবার বাগানের ওই এলাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশের (হুজি) অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার হত।
হুজির ওই আস্তানা থেকে সেদিনের অভিযানে বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, জেহাদী ও সাংগঠনিক বই, বোমা তৈরির নকশা এবং ১২টি ককটেল উদ্ধারের দাবি করেছিলেন র্যাব কর্মকর্তারা।
ওই ঘটনায় সেদিনই চট্টগ্রামের রাউজান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দুটি মামলা হয়।
২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের দুই দিন পর ১৫ ডিসেম্বর সকালে লালখান বাজারের জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামীয়া মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকে নিদোর্ষ দাবি করেন মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
সেদিন বিকালেই লালখান বাজার মাদ্রাসা থেকে মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীকে আটক করে র্যাব। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর তাকে রাউজান থানায় করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুরনো খবর
চট্টগ্রামে ৫ হুজি সদস্য গ্রেপ্তার