Published : 08 Jan 2026, 05:05 PM
মুহাম্মাদ ওয়াসিম ছুটছিলেন দ্বিতীয় রান নিতে। বোলার মেহেদি হাসান রানার দৃষ্টি ছিল ফিল্ডারের দিকে। থ্রোয়ের ব্যাক-আপ দেওয়ার জন্য পেছানোর চেষ্টায় তিনি চলে আসেন ওয়াসিমের সামনে। বাধা পেয়ে বোলারকে পাশ কাটিয়ে ক্রিজের দিকে ছুটতে হয় ব্যাটসম্যানকে। ওই যে এক সেকেন্ড বা আরও কম সময়ের দেরি, তাতেই গড়বড়। ওয়াসিম পারলেন না সময়মতো ক্রিজে ফিরতে।
রাগ-বিরক্তি, সবই ছিল ওয়াসিমের প্রতিক্রিয়ায়। আম্পায়ারকে কিছু বললেনও এটা নিয়ে। রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি হতাশা নিয়ে। তবে শেষটা হতাশায় হলেও আসল কাজ ততক্ষণে করে ফেলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটসম্যান। আগের দিন সিলেটে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরদিন দারুণ ইনিংস খেলে তিনি রাজশাহীর জয়ের নায়ক।
ছয় দিন বিরতির পর জয় দিয়েই মাঠে ফিরেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে হারিয়েছে তারা ৪ উইকেটে।
হারের চক্রে থাকা নোয়াখালী আধ ডজন ম্যাচ খেলে হেরে গেল সবকটিতেই।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সৌম্য সরকারের ফিফটিতে ২০ ওভারে নোয়াখালী তোলে ১৫১ রান। এবারের আসরে এই প্রথম দেড়শ পার হলো দলটি।
সেই পুঁজি নিয়ে কিছুটা লড়াই করলেও ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট হয়নি। রাজশাহী জিতে যায় এক ওভার বাকি রেখে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিপিএলে একটি ম্যাচ খেলে ৭ বলে ১ রান করেছিলেন ওয়াসিম। এবার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ বলে ৬০ করে তিনি ম্যাচের সেরা।
রাজশাহীর রান তাড়া শুরু হয় হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে মেইডেন ওভার খেলে। পরের ওভারে মোহাম্মদ নাবির বোলিংয়ে আসে তিন রান।
তবে উল্টো স্রোতের শুরু পরের ওভার থেকেই। হাসানের লেংথ বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন ওয়াসিম। আরও তিনটি চারসহ ওই ওভার থেকে আসে ২২ রান। আবু জায়েদ চৌধুরির করা পরের ওভার থেকে আসে ১৬ রান।

মেহেদি হাসান রানার বলে দৃষ্টিকটূ স্লগ খেলে তানজিদ হাসান (২০ বলে ২১) আউট হয়ে যান পঞ্চম ওভারে। তবে ওয়াসিমের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে রাজশাহী।
পাওয়ার প্লে শেষেই কিপার মাহিদুল ইসলামের অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচে রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন ১ রানে।
সেই ধাক্কা সামলে ওয়াসিম ও মুশফিকের জুটি এগিয়ে নেয় দলকে। জাহির খানকে ছক্কা মেরে ওয়াসিম পঞ্চাশে পৌঁছে যান ২৯ বলেই।
পরের ওভারে ছক্কা মারেন তিনি মেহেদি রানাকেও। পরের বলেই সেই রান আউট।
এরপর মুশফিকুর রহিম (২২ বলে ১৯) পারেননি দলকে টানতে। একটি ছক্কা মারার পর বিদায় নেন ইয়াসির আলি। জয়ের কিানায় গিয়ে আউট হন এসএম মেহেরব।
আসরে প্রথম খেলতে নেমে অপরাজিত রান করে দলকে জিতিয়ে ফেরেন রায়ান বার্ল।
ম্যাচের শুরুতে নোয়াখালী ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। টানা ব্যর্থতায় থাকা হাবিবুর রহমান সোহানকে বাদ দিয়ে শাহাদাত হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়। মৌসুমে প্রথমবার মাঠে নেমে শাহাদাত নিজে ভালো করতে পারেননি, তবে দল পায় ভালো শুরু।

রানের গতি অবশ্য খুব ভালো ছিল না। শাহাদাত ও সৌম্য প্রথম পাঁচ ওভারে তুলতে পারেন কেবল ৩১ রান। তবে ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যটিংয়ে ধুঁকতে থাকা দলের জন্য উইকেট না হারানোই ছিল স্বস্তির।
৫৭ রানের জুটি থামে অষ্টম ওভারে। রিপন মন্ডলের বলে এলবিডব্লিউ হন ২৮ বলে ৩০ রান করা শাহাদাত।
তিন নেমে মাজ সাদাকাত (১৩ বলে ৭) আরও কমিয়ে দেন রানের গতি। মৌসুমে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই তাকে ফেরান রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শুরুর জড়তা কাটিয়ে সৌম্য ততক্ষণে একটু হাত খুলতে শুরু করেছেন। হাসান মুরাদকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটির কাছাকাছি যান তিনি। ষোড়শ ওভারে তানজিম হাসানকে চার মেরে পঞ্চাশ পা রাখেন ৪০ বলে। পরের বলেই ছক্কায় আভাস দেন তিনি শেষের ঝড় তোলার।
সেটি অবশ্য হয়নি। হাসান মুরাদের বলে বড় শটের চেষ্টাতেই তার ইনিংস থামে ৪৩ বলে ৫৯ রান করে।
শেষ দিকের দাবি কিছুটা মেটাতে পারেন মোহাম্মাদ নাবি। তিন ছক্কায় ২৬ বলে করেন তিনি ৩৫ রান। শেষের আগের ওভারে রিপনকে ছক্কা মারার পরের বলে আউট হয়ে যান তিনি আরেকটি ছক্কার চেষ্টায়।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ক্রিজে নেমে প্রথম বলেই ছক্কায় দলকে নিয়ে যান দেড়শর কাছে। তবে অধিনায়ক হায়দার আলি ৬ বল খেলে অপরাজিত থাকে মাত্র ৩ রানে।
সেই রান যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৫১/৫ (শাহাদাত ৩০, সৌম্য ৫৯, সাদাকাত ৭, নাবি ৩৫, হায়দার ৩, মাহিদুল ১০, জাকের ১*; বিনুরা ৪-০-৩০-০, মেহেরব ৪-০-২১-০, তানজিম ৪-০-৪৩-০, রিপন ৪-০-২৭-২, বার্ল ১-০-৮-০, শান্ত ১-০-২-১, মুরাদ ২-০-২০-১)।
রাজশাহী রয়্যালস: ১৯ ওভারে ১৫২/৬ (তানজিদ ২১, ওয়াসিম , শান্ত ১, মুশফিক ১৯, বার্ল ১৯*, ইয়াসির ৯, মেহেরব ৮, তানজিম ১*; হাসান ৪-১-৩৬-১, নাবি ৪-০-২৬-১, আবু জায়েদ ১-০-১৬-০, মেহেদি রানা ৪-০-২৫-৩, জাহির ৪-০-২৮-০, সাদাকাত ২-০-১১-০)।
ফল: রাজশাহী রয়্যাল ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মুহাম্মাদ ওয়াসিম।