Published : 25 Jul 2025, 01:20 PM
ভাঙা আঙুল নিয়ে গ্রায়েম স্মিথ, তামিম ইকবালদের ব্যাটিংয়ে নামা, ভাঙা চোয়াল ব্যান্ডেজে জড়িয়ে আনিল কুম্বলের বোলিং করা, যুগে যুগে এমন বেশ কিছু বীরোচিত অধ্যায়ের স্বাক্ষী হয়েছে ক্রিকেট। সেখানেই এবার উজ্জ্বল সংযোজন রিশাভ পান্ত। ভাঙা পায়ে ভারতীয় কিপার-ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ে নামা আর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার চর্চা চলছে ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে। নাটকীয়ভাবে তার ব্যাটিংয়ে নামার পেছনের গল্প শোনালেন সতীর্থ শার্দুল ঠাকুর।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের প্রথম দিনে ক্রিস ওকসের ফুল লেংথ বল রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় পায়ে আঘাত পান পান্ত। তখনই তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে প্রবল যন্ত্রণার ছাপ। কেডস খোলার পর দেখা যায় জায়গাটা ফুলে উঠেছে বাজেভাবে, আছে রক্তের ছোপ। হাঁটতে না পারায় মাঠ ছাড়েন তিনি গল্ফ বাগিতে করে।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্ক্যান করিয়ে চিড় ধরা পড়ে তার। জানানো হয়, চলতি টেস্ট তো বটেই, এই সিরিজেই আর খেলতে পারবেন না তিনি। মাঠের বাইরে থাকতে হবে ছয় থেকে আট সপ্তাহ।
পরদিন বৃহস্পতিবার প্রথম সেশনে রাভিন্দ্রা জাদেজার দ্রুত বিদায়ের একটু পর যখন আউট হন শার্দুল ঠাকুর, সবাইকে চমকে দিয়ে অনেকটা খুঁড়িয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন পান্ত। গোটা গ্যালারি তুমুল করতালিতে স্বাগত জানায় তাকে।
ভাঙা পা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান পান্ত। ৩৭ রান থেকে ফিফটি পেরিয়ে যান। জফ্রা আর্চারকে ছক্কা মেরে স্পর্শ করেন ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কায় ভিরেন্দার শেবাগের রেকর্ড। লোয়ার-অর্ডারদের নিয়ে লড়াই করে ভারতের রান পার করান সাড়ে তিনশ। পরে আর্চারের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন ৫৪ রানে।
গুরুতর চোট নিয়েও তার মাঠে নামা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ধারাভাষ্যে, বিশ্লেষণে, সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ছিল তুমুল তোলপাড়। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে শার্দুল শোনালেন পান্তের ব্যাটিংয়ে নামার পেছনের গল্প।

“আমাদের ভাবনায় এটা ছিল (পান্তকে ব্যাটিংয়ে নামানো)। মেডিকেল টিমের চেষ্টার কমতি ছিল না। তাদেরকে কুর্নিশ। তারা রিশাভকে মাঠে নামার মতো তৈরি করতে পেরেছে। সে কিছুক্ষণ ব্যাট করতে পেরেছে। যতটুকুই পেরেছে… দলের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ রান করেছে।”
শার্দুল বললেন, তারা নিশ্চিত ছিলেন যে, হাঁটতে পারলেই ব্যাটিংয়ে নেমে যাবেন পান্ত।
“এটা তার সিদ্ধান্ত ও মেডিকেল টিমের সিদ্ধান্ত। সকালে আমাদের মনে হয়েছে, সে হয়তো ব্যাট করতে পারবে। এর আগে তার পা স্পর্শ করে আমি দেখেছি সে ঠিকঠাক হাঁটতে পারছে কি না। কারণ, ঠিকঠাক হাঁটতে পারলেই কেবল ব্যাটিংয়ে নামার কথা ভাবা যেতে পারে।”
“আমরা মাঠে যাওয়ার পর সবাই যখন গা গরম করেছিলাম, সে ছিল না সেখানে। খেলা শুরুর পর তো আমি ব্যাটিংয়ে নামি। এরপর আর জানি না কী হয়েছে…।”
ব্যাটিংয়ে নামলেও পান্তের ব্যথার তীব্রতা ছিল প্রবল। কিন্তু তাড়না ও মানসিক দৃঢ়তায় সেই ব্যথা জয় করেছেন তিনি।
“হ্যাঁ, প্রচণ্ড ব্যথা পাচ্ছিল সে। নানা সময়েই অসাধারণ কিছু করতে দেখেছি তাকে। এটাও তেমনটা অসাধারণ আরেকটি ব্যাপার, আজকে সে দলের জন্য যা করেছে।”
“তবে রিশাভের ইতিবাচকতা ও সাহসিকতা তাকে সব ধরনের ব্যথা থেকে দূরে রেখেছিল, যত ব্যাথাই সে অনুভব করুক। তার মতো একজন যখন এত ব্যথা পাচ্ছে, মানে চোট ভীষণ গুরুতর। কিন্তু তার ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা প্রবল।”
পান্ত ব্যাটিংয়ে নামার পর গোটা দলই রোমাঞ্চ ও উত্তেজনা নিয়ে তার ব্যাটিং উপভোগ করেছেন বলে জানালেন শার্দুল।
“সবাই খুব রোমাঞ্চিত ছিল দেখার জন্য যে, সে কীভাবে ইনিংস এগিয়ে নেয়। আজকে সে দেখিয়ে দিয়েছে, দলের জন্য তার আবেগ তুলনাহীন। আগেও আমরা নানা সময়ে দেখেছি, চিড় নিয়ে অনেকে ব্যাট করেছে। গ্রায়েম স্মিথ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাট করেছে ভাঙা আঙুল নিয়ে। এই ধরনের মুহূর্তেই কোনো খেলোয়াড়ের দৃঢ়তা ফুটে ওঠে।”