Published : 21 Jul 2026, 09:55 AM
চোট, বিশ্রাম, বিরতি- সবকিছুর পালা শেষে অনেক দিন পর অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড। সম্ভাব্য সেরাদের নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা করেছে তারা। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স যেমন ফিরেছেন চোট কাটিয়ে, তেমনি আবার বল হাতে ছুটবেন জশ হেইজেলউড ও ন্যাথান লায়ন। চোট-জর্জর বোলিং আক্রমণে গত মৌসুমে অসাধারণ পারফর্ম করা মিচেল স্টার্ক তো আছেনই।
দুই ম্যাচের জন্য মাত্র ১৩ জনকে রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। যেটির মানে, কোনো ম্যাচেই সেভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ বেছে নিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের সঙ্গে তলানির দিকের দলের এই লড়াই শুরু হচ্ছে আগামী ১৩ অগাস্ট ডারউইন টেস্ট দিয়ে। পরের টেস্ট ম্যাকাইয়ে ২২ অগাস্ট থেকে।
এই সিরিজ দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের ব্যস্ততম সময়ও শুরু হবে এই সিরিজ দিয়েই, যেখানে ১১ মাসের মধ্যে খেলবে তারা ২০ টেস্ট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে ম্যাচ হবে ২১টি।
অস্ট্রেলিয়ার সবশেষ টেস্ট খেলেছে গত জানুয়ারিতে অ্যাশেজের সিডনি টেস্ট। সেখানে চোটের কারণে ছিলেন না কামিন্স, হেইজেলউড ও লায়ন। ওই টেস্টসহ অ্যাশেজে তিন টেস্ট খেলে দারুণ পারফর্ম করা মাইকেল নিসার দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাইরে চলে গেলেন মূল ক্রিকেটারররা ফেরায়।
নিসারের সঙ্গে এই সিরিজের স্ট্যান্ড বাই তালিকায় রাখা হয়েছে সিডনিতে ওই টেস্টের স্কোয়াডে থাকা পেসার ব্রেন্ডান ডগেট ও অফ স্পিনার টড মার্ফিকে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি বললেন, মূল বোলিং আক্রমণকে একসঙ্গে ফিরে পেয়ে তারা রোমাঞ্চিত।
“প্যাট (কামিন্স), জশ (হেইজেলউড) এবং ন্যাথানের (লায়ন) প্রত্যাবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে এনএসপি (জাতীয় নির্বাচক প্যানেল)। তারা নিজ নিজ চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগতভাবে এবং এসএসএসএম (স্পোর্টস সায়েন্স, স্পোর্টস মেডিসিন) দলের সাথে প্রচণ্ড কঠোর পরিশ্রম করেছে।
যদিও এটি ১৩ সদস্যের একটি দল, এই ম্যাচগুলোর আগে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আমাদের ক্রিকেটাররা প্রস্তুত থাকবে ও সবাইকে পাওয়া যাবে।”
ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে টিকে গেছেন জেইক ওয়েদেরল্ড। তবে অ্যাশেজে ১০ ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি করা ওপেনারের জন্য বাংলাদেশ সিরিজ হবে একটি পরীক্ষা। ভালো করতে না পারলে হারাতে হতে পারে জায়গা।
অ্যাশেজে কিছুটা সম্ভাবনার যে ঝলক দেখিয়েছেন ওয়েদেরল্ড, সেটিই সামনে ভালোভাবে দেখতে চান প্রধান নির্বাচক।
“ওই (অ্যাশেজ) সিরিজে এমন কিছু মুহূর্ত ছিল যেখানে জেইক এবং ট্র্যাভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দল হিসেবে তাদের খেলাটা আমাদের ভালো লেগেছিল। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও জেইক যখন তার সেরা ফর্মে ছিল, তখন তাকেও ওই সিরিজে দারুণ লাগছিল।
তাই আশা করি, আগের থেকে আমরা তার উন্নতি দেখতে পাব এবং টেস্ট পর্যায়ে সাফল্য পেতে কী প্রয়োজন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হবে।”
তিন নম্বরে টিকে গেছেন মার্নাস লাবুশেন। তবে গত সাত ইনিংসে ফিফটি করতে না পারা ও ৪০ ইনিংসের সেঞ্চুরি খরায় থাকা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সামনেও সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত।
চারে যথারীতি স্টিভেন স্মিথ। সবশেষ টেস্টে পাঁচে খেলা উসমান খাওয়াজা এখন অবসরে। তবে সেখানে নতুন কাউকে নেওয়া হয়নি। সম্ভবত ক্যামেরন গ্রিনকে খেলানো হবে পাঁচে। সেক্ষেত্রে আরেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার বাউ ওয়েবস্টারকেও দেখা যেতে পারে একাদশে। ছয়ে অ্যালেক্স কেয়ারি, সাতে ওয়েবস্টার। এরপর কামিন্স, স্টার্ক, লায়ন ও হেইজেলউড।
বাড়তি পেসার হিসেবে স্কোয়াডে থাকছেন স্কট বোল্যান্ড, বাড়তি কিপার-ব্যাটার জশ ইংলিস।
হেইজেলউড-কামিন্সের অনুপস্থিতিতে গত অ্যাশেজে পাঁচটি টেস্টই খেলেছেন বোল্যান্ড। যখনই সুযোগ পেয়েছেন, পারফর্ম করেছেন ৩৭ বছর বয়সী পেসার। তবে মূল পেসাররা ফেরায় একাদশের বাইরে চলে যেতে হবে ১৯ টেস্টে ৮২ উইকেট নেওয়া পেসারকে।
হেইজেলউড সবশেষ টেস্ট খেলেছেন গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। পরে লম্বা সময় বাইরে থাকন শুরুতে হ্যামস্ট্রিং ও পরে একিলিস টেন্ডনের সমস্যায়। গত পাঁচ অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মের মধ্যে চারটিতেই তিনি নিজের প্রথম টেস্ট বা প্রথম-শ্রেণির ম্যাচে চোট পেয়েছেন।
২০২১-২২ অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ব্রিজবেনে তিনি সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন এবং মৌসুমের বাকি অংশে খেলতে পারেননি। ২০২২-২৩ মৌসুসের প্রথম টেস্টে আবার তার সাইড স্ট্রেইন হয় এবং পরবর্তী দুটি টেস্টে খেলতে পারেননি। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথম টেস্ট খেলার পর একিলিস টেন্ডনের সমস্যায় পড়েন এবং একটিও টেস্ট না খেলেই ভারত সফর থেকে দেশে ফিরে যান। ২০২৩-২৪ সালে টানা ৯ টেস্ট খেলে নিরবচ্ছিন্ন ধারা বজায় রাখেন। কিন্তু ২০২৪-২৫ গ্রীষ্মের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে আবারও সাইড স্ট্রেইন হানা দেয়। পরে তৃতীয় টেস্টের দলে ফিরলেও ব্রিজবেনে ম্যাচের শুরুতেই তার কাফ মাসলে টান লাগে।
গত মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালসহ টানা চারটি টেস্ট এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনটি টেস্ট খেলেন। কিন্তু প্রথম অ্যাশেজ টেস্টের আগে শেফিল্ড শিল্ডে প্রথম ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েন। এরপর মাঠে ফেরার চেষ্টার পথে একিলিস টেন্ডনে ক্রমাগত সমস্যা হতে থাকে এবং সিরিজের বাকি অংশ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি।
গত জুলাইয়ের পর থেকে পিঠের চোটের কারণে কেবল একটি টেস্টই খেলতে পেরেছেন কামিন্স, যেটি ছিল অ্যাডিলেইডে। ওই ম্যাচ জিতে অ্যাশেজ নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটের পড়েন লায়ন, পরে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে তার। ১৪১ টেস্টে ৫৬৭ উইকেট শিকারি স্পিনার এখন ফিরছেন পুরো চনমনে হয়ে। বয়ম ৩৮ পেরিয়ে গেলেও গত কিছুদিনে বেশ কবার তিনি বলেছেন, খেলতে চান আরও অনেক দিন।
এই সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়নি এখনও।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড:
প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেইক ওয়েদেরল্ড, বাউ ওয়েবস্টার।