Published : 07 Jun 2026, 11:36 PM
প্রচুর সিম মুভমেন্ট তো ছিলই, সঙ্গে অসম বাউন্স ছিল নিয়মিত চিত্র। লর্ডস টেস্টের ব্যাটিং দুরূহ উইকেট নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস বলেছেন, এই ধরনের উইকেট টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য সহায়ক হবে না। এমসিসিও স্বীকার করে নিয়েছে, উইকেট নিয়ে তারা হতাশ।
ঐতিহ্যবাহী এই মাঠের মালিক ও ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) বলেছে, লর্ডসের উইকেট তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির আগেই ১১৫ রানের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে ঘন ঘন ও দীর্ঘ বিরতি না থাকলে ম্যাচ হয়তো শেষ হয়ে যেত দ্বিতীয় দিনেই। খেলা হয়েছে যে মোটে ১৬৬ ওভার। এর মধ্যেই উইকেট পড়েছে ৪০টি।
অসম বাউন্সের কারণে বল কখনও লাফিয়ে উঠছিল, আবার কখনও খুব নিচু হয়ে যাচ্ছিল। ৪০টি আউটের মধ্যে ২৪টিই বোল্ড বা এলবিডব্লিউ।
উভয় দল দুই ইনিংসে অলআউট হওয়া টেস্টগুলোর মধ্যে ইতিহাসের তৃতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট এটি।
লর্ডসের আউটফিল্ড ও পিচের উন্নতির জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে এমসিসি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রব লসন রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রথম টেস্টের উইকেট তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
“আমরা দেখতে পেয়েছি যে, আমরা যতটা না প্রত্যাশা করতাম তার চেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় বাউন্স দেখা গেছে এই টেস্টের পিচে। সর্বোচ্চ মানের প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং যখন কোনো পিচ সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হই।”
লসনের মতে, মে মাসে অসময়ের গরম আবহাওয়ার পর টেস্টের আগে বৃষ্টি হওয়ায় প্রধান গ্রাউন্ডসম্যান কার্ল ম্যাকডারমট ও তার কর্মীদের জন্য উইকেট প্রস্তুত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “তবে, আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।”

ম্যাচের পর স্টোকস বলেন, এই ধরনের উইকেট টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারবে বলে মনে করেন না তিনি।
"এই সংস্করণের টিকে থাকা নিয়ে আমাকে সব সময়ই প্রশ্ন করা হয়। খেলাটি পাঁচ দিন ধরে চলে। কিন্তু আবহাওয়া (প্রতিকূলতা) না থাকলে চতুর্থ দিনও লাগত না। যেহেতু আমি বিশ্বাস করি, টেস্ট ক্রিকেট কখনোই বিলুপ্ত হওয়া উচিত নয়, তাই এটা (আগেভাগে শেষ হওয়া) মোটেই কাম্য নয়।”
“খেলার দৃষ্টিকোণ থেকে, চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আগামী সপ্তাহে (ওভালে দ্বিতীয় টেস্টে) কন্ডিশন হয়তো পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারে। আমাদের একই কাজ করতে হবে: দ্রুত কন্ডিশন বুঝে নিয়ে জেতার সেরা উপায় বের করতে হবে।”
যদিও এমন উইকেটের জন্য মাঠকর্মীদের কাঠগড়ায় তুলতে চান না স্টোকস।
“মাঠকর্মীদের জন্য কাজটা কঠিন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন উইকেট তৈরি করছে না, যা কঠিন হয়, যেখানে একদিনে ১৬টি উইকেট পড়ে (প্রথম দিনে পড়েছিল)। কিন্তু আমাকে সবসময় জিজ্ঞেস করা হয় কী করা দরকার, টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচানোর জন্য এবং আরও অনেক কিছু। যখন এই ধরনের অস্বাভাবিক কন্ডিশন দেখা যায়, তখন তা ভবিষ্যতে খেলাটির জন্য সহায়ক হবে না।”