১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে’

জাপানের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি ‘মিতসুই ওএসকে লাইন্স’-এর প্রধান নির্বাহী ‘দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন।

‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে’
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jun 2026, 06:45 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:25 PM

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি কেবল কাগজে-কলমে হলেই হবে না, বাস্তবে এর প্রতিফলন না দেখা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। এই জলপথ পুরোপুরি সচল হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

জাপানের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি ‘মিতসুই ওএসকে লাইন্স’-এর প্রধান নির্বাহী জোতারো তামুরা ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। 

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০শতাংশ) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ও ইউরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনেও এই রুট ব্যবহৃত হয়।

মিতসুই ওএসকে-এর প্রধান নির্বাহী জোতারো তামুরা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে শুধু একটি সাধারণ চুক্তি হওয়াই যথেষ্ট নয়। চুক্তিটিকে অর্থবহ হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন দেখতে হবে, যাতে শিপিং কোম্পানিগুলো সেখানে জাহাজ পাঠাতে নিরাপদ বোধ করে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ অবসানের চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগেই তামুরা এই সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার আলোকে এটি ধরে নেওয়া যৌক্তিক হবে যে, এই রুট পুরোপুরি সচল হতে এক মাস যদি নাও লাগে, তবুও অন্তত কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।”

ওয়াশিংটন ও তেহরানের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খবরেও হরমুজ সচল হওয়ার বিষয়ে তামুরার এই দৃষ্টিভঙ্গ বদলায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিতসুই ওএসকে লাইন্স জাপানের শীর্ষ তিনটি শিপিং প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। তাদের বহরে বাল্ক ক্যারিয়ার, ট্যাঙ্কার ও ফেরিসহ ৯০০-এরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। তবে এই বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানিটি কোনও মন্তব্য করেনি।

ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে দাবি করেছেন, তেলবাহী জাহাজগুলো ইতোমধ্যে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল শুরু করেছে এবং তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অক্ষত ‘সাউদার্ন হাইওয়ে’ ব্যবহার করে এগিয়ে চলেছে।