Published : 15 Jun 2026, 12:33 PM
৫ ওভারে ৭০। ২ ওভারে ২৯। সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। কিন্তু শেরফেন রাদারফোর্ডের ফিফটি আর শেষের আগের ওভারে জেসন হোল্ডারের তিন ছক্কা জয় চলে এলো নাগালে। কিন্তু শেষ ওভারে আবার নাটকীয়তা জমে উঠল একটু। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পেরে উঠল না শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ জিতে সিরিজও জিতে নিল ক্যারিবিয়ানরা।
জ্যামাইকার দর্শকদের উল্লাসে মাতিয়ে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজ তারা শেষ করল ২-১ ব্যবধানে জিতে।
ম্যাচের প্রথম ভাগে শামার জোসেফের ৫ উইকেট শ্রীলঙ্কার স্কোর আটকে রাখে ১৬৯ রানে। সেই পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জয়ের আশা জাগায় লঙ্কানরা। কিন্তু শেষে এসে আর পারেনি তারা। লঙ্কানদের পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র দুশমান্থা চামিরাকে গুঁড়িয়েই দুই বল বাকি থাকতে ম্যাচ শেষ করে ক্যারিবিয়ানরা।
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালের ম্যাচটিতে জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন পড়ে ৭০ রানে।
রাদারফোর্ড তখন খেলছেন ২৩ বরে ২৫ রানে, রভম্যান পাওয়েলের রান ২০ বলে ১৮। মন্থর গতিতে এগোতে থাকা দুই ব্যাটসম্যান জ্বলে ওঠেন এরপরই।
ষোড়শ ওভারে মাহিশ থিকসানার বলে রাদারফোর্ডের ছক্কাসহ রান আসে ১০। ম্যাচের মোড় সত্যিকার অর্থে বদলে যায় পরের ওভারে। চামিরার বলে রাদারফোর্ডের এক ছক্কার সঙ্গে পাওয়েলের দুই ছক্কাসহ রান আসে ২৪।
ওভারের শেষ বলে অবশ্য স্লোয়ার ডেলিভারিতে আউট হয়ে যান পাওয়েল (২৭ বলে ৩৩)। অষ্টাদশ ওভারে রাদারফোর্ড একটি বাউন্ডারি মারলেও ইশান মালিঙ্গা রান দেন মাত্র ৭। ক্যারিবিয়ানদের কাজ হয়ে ওঠে কঠিন।

চামিরার করা পরের ওভারে প্রথম দুই বলে আসে তিন রান। এরপরই চার বলের মধ্যে তিনটি ছক্কা মেরে দেন হোল্ডার।
শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে স্রেফ ৬ রানের। কিন্তু দাসুন শানাকার প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেনি রাদারফোর্ড। পরের বলটি হয় ওয়াইড। এরপরই রোমাঞ্চের সমাপ্তি। রাদারফোর্ডের শটে এক্সট্রা কাভার সীমানায় ফিল্ডার বল ঠিকমতো ধরতে না পারায় বল পেরিয়ে যায় বাউন্ডারি।
৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড, ৫ বলে ২১ রানে হোল্ডার।
আগের ম্যাচে মাত্র ৯ রানে ৩ উইকেট শিকার করা চামিরা এবার ৪ ওভারে রান দেন ৬৪। তার শেষ দুই ওভার থেকেই আসে ৪৭ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ওভারেই অধিনায়ক শেই হোপ বোল্ড হয়ে যান দুনিথ ওয়েলালাগের বলে।
শিমরন হেটমায়ারের পাল্টা আক্রমণে দ্রুত কিছু রান এলেও পরে ১ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে তারা ৩ উইকেট। ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ১৬ রান করতে বল খেলেন ২০টি। একাদশে ফেরা আকিম ওগিস ৭ বলে করতে পারেন ১ রান। এই দুটির মাঝে হেটমায়ার বিদায় নেন ১৯ বলে ৩২ করে।
নবম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৪ উইকেটে ৫৩।
সেখান থেকে রাদারফোর্ড ও পাওয়েলের জুটি এগিয়ে নেয় দলকে। শেষের ঝড়ে ধরা দেয় জয়।
স্যাবাইনা পার্কে এ দিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার শুরুটাও খুব ভালো ছিল না। পাওয়ার প্লেতে উইকেট হারায় তারা তিনটি।
অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস বিদায় নেন দ্রুতই। দুটি করে ছক্কা ও চার মেরে শামার জোসেফের শিকার হন পাথুম নিসাঙ্কা (১৭ বলে ২৬)। পাভান রাথ্নায়েকে এলবিডব্লিউ হয়ে যান প্রথম বলেই।
কামিল মিশারা (২৩ বলে ২৮), কামিন্দু মেন্ডিস (১৫ বলে ২০) ও শানাকা (১৩ বলে ১৬) বড় কিছু করতে পারেননি। এক পর্যায়ে দেড়শ রানকেই মনে হচ্ছিল দূরের পথ।
সাতে নেমে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ২৮ বলে ৪৩ রান করেন দুনিথ ওয়েলালাগে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ২১। দুজনের ২৮ বলে ৪৯ রানের জুটি দলকে এগিয়ে নেয় লড়িয়ে স্কোরের পথে।
শামার জোসেফের এক ওভারে ২০ রান নেন দুজন মিলে। সেই জোসেফ শেষ ওভারে দারুণ বোলিং তিন উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন ৫ শিকার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তো বটেই, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই প্রথমার ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই পেসার।
সেই পুঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কা লড়াই করলেও তাদের জয়ের আশা উড়ে গেল শেষের ক্যারিবিয়ান ঝড়ে।
৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা জোসেফ। আগের দুই ম্যাচে ছয়টি নিয়ে সিরিজের সেরাও তিনিই। ১১ উইকেট নিয়ে এই পেসার স্পর্শ করেন তিন ম্যাচের সিরিজের রাশিদ খানের রেকর্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৬৯ (নিসাঙ্কা ২৬, কুসাল মেন্ডিস ৫, মিশারা ২৮, রাথ্নায়েকে ০, কামিন্দু মেন্ডিস ০, শানাকা ১৬, ওয়েলালাগে ৪৩, হাসারাঙ্গা ২১, থিকসানা ৪, চামিরা ০, মালিঙ্গা ১*; আকিল ৪-০-৩১-১, ফোর্ড ৪-০-৩৯-১, হোল্ডার ৪-০-৩৩-১, জোসেফ ৪-০-৩৩-৫, চেইস ৪-০-৩২-০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.৪ ওভারে ১৭০/৫ (কিং ১৬, হোপ ০, হেটমায়ার ৩২, ওগিস ১, পাওয়েল ৩৩, রাদারফোর্ড ৫৪*, হোল্ডার ২১*; ওয়েলালাগে ৩-০-২৩-১, চামিরা ৪-০-৬৪-০, মালিঙ্গা ৪-০-৩০-০, থিকসানা ৪-১-২৬-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-১৭-২, শানাকা ০.৪-০-৬-০)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ ও সিরিজ: শামার জোসেফ।