Published : 12 Jul 2026, 01:25 AM
ঢাকার শ্যামলীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেল ২৩ জুন চার মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়, যার কারণ হিসেবে 'অক্সিজেন লাইনে লিকেজ' থাকার অভিযোগ তোলে পরিবার।
এর সপ্তাহ চারেক আগে গত ২৭ মে ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয় ছয় নবজাতকের, যেখানে ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে দেয় সরকার।
এসব ঘটনায় আরেকবার সামনে আসে বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মানের বিষয়টি। সেই সঙ্গে আরেকবার প্রশ্ন ওঠে, সরকারের বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড এসব সাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কতটা মেনে চলে?
গত কয়েক দিনে ‘অবহেলায় মৃত্যুর’ একাধিক অভিযোগ ওঠার পর ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ‘রূপায়ন শেলফোর্ড’ ভবন ঘুরে দেখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এই ভবনে আটটি বিশেষায়িত বেসরকারি চিকিসাকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ‘শ্যামলী বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালও’ রয়েছে।
শ্যামলীতে 'অক্সিজেন লাইনে লিকেজ' থাকায় চার মাসের যে শিশুটি মারা গেছে, সে এ হাসপাতালেই ভর্তি ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনে বর্তমানে ছয়টি হাসপাতাল চালু রয়েছে। ‘ইসলাম ডায়াগনস্টিক ল্যাব’ ও ‘ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বন্ধ।
চালু থাকা ছয়টির মধ্যে তৃতীয় তলায় রয়েছে ‘ঢাকা ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড অর্থোপেডিক হাসপাতাল’, পঞ্চম তলায় ‘সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কম্প্রিহেনসিভ কিডনি কেয়ার সেন্টার’, সপ্তম তলায় 'শ্যামলী বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল' ও ‘হাই কেয়ার অর্থোপেডিকস অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল’, অষ্টম তলায় ‘সিটি কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এবং ১৩তম তলায় রয়েছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’।
এই ছয়টির মধ্যে হাসপাতাল রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে শ্যামলী বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ আছে শিশু মৃত্যুর পর থেকে। বাকি চারটির মধ্যে সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া কোনোটিতে চিকিৎসকের দেখা মেলেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক থাকতে হবে। শুধু ‘কল ইন’ ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চালানো যাবে না। যারা এমন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই ভবনে আটটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকাটা আইনের চোখে কোনো সমস্যা নয়। সরকারের নির্দেশনা মেনে চললে কোনো সমস্যা দেখেন না জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও।
কিন্তু সরেজমিনে ‘রূপায়ন শেলফোর্ড’ ভবনের এসব হাসপাতালে সরকারের বেশ কিছু শর্ত বা নির্দেশনা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচলনার বিষয়ে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১০টি নির্দেশনা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
৫ নম্বর নির্দেশনায় বলা আছে, “বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সব শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
কিন্তু ‘রূপায়ন শেলফোর্ডের’ বেশির ভাগ হাসপাতালে এই নির্দেশনা উপেক্ষিত রয়েছে।
একাধিক হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষের মধ্যে নতুন করে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। কোনো কোনো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকও পাওয়া যায়নি।
এসব হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক সবসময় থাকেন না, কিন্তু ফোন পেলে চলে আসেন। অর্থাৎ, ‘কল ইন’ চিকিৎসক দিয়েই এখানে বেশির ভাগ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।
ভবনের সপ্তম তলায় লিফট থেকে নামলেই চোখে পড়ে ‘শ্যামলী বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল’। বর্তমানে হাসপাতালের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, জুন এই হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
এই হাসপাতালে মারা যাওয়া চার মাসের শিশুটির বাবা মো. ফারুক তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ‘অক্সিজেন লিকেজকে’ দায়ী করেছেন।
তার অভিযোগ, "চিকিৎসায় আমার বাচ্চাটা ভালো হচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণে আমার বাচ্চাটা মারা গেছে, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করছে না।"
গ্যাস লিকেজের ঘটনার পরে এই হাসপাতালে ভর্তি থাকা বাকি পাঁচ শিশুকে উপরের তলার আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানান্তরের সময়ই মারা যায় হামের উপসর্গ থাকা চার মাসের শিশুটি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিশুটির অবস্থা অবনতির দিকে ছিল; অক্সিজেন লাইনে লিকেজের সঙ্গে তার মৃত্যুর সম্পর্ক নেই।
সপ্তম তলাতেই রয়েছে ‘হাই কেয়ার অর্থোপেডিকস অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল’। ২০ শয্যার এই হাসপাতালে গিয়ে কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি।
এ চিকিৎসাকেন্দ্রে জরুরি বিভাগ রয়েছে। কিন্তু তাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। কারণ হিসেবে জরুরি বিভাগে কোনো রোগী না আসার কথা শোনান হাসপাতালের কর্মীরা।
এই হাসপাতালের ‘মেডিকেল অফিসার’ হিসেবে পরিচয় দেন মো. লিটন নামে একজন।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ২০ শয্যার মধ্যে পাঁচটি কেবিন রয়েছে। বিভিন্ন সময় ৬ জন ডাক্তার থাকেন। বর্তমানে তাদের কেউ নাই। ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেই রোগী নিয়ে আসা হয়।’’
কার্যক্রম বন্ধ থাকা শ্যামলী বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের অভ্যর্থনা ডেস্কে ছিলেন মো. তানভীর। তিনি বলেন, ‘‘২০ শয্যার মধ্যে নিওনেটাল ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) মিলে ১০টা। বাকি সব সাধারণ বেড।’
‘‘দুদিন আগের এক ঘটনায় শিশু মৃত্যুর পর যেন কেউ এসে ‘মিসগাইড’ না হোন, এজন্য আমরা এখানে আছি। দ্রুতই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের অবস্থা জানানো হবে।”
এই তলায় সিটি কেয়ার জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওয়ার্ড রয়েছে।
সেখানে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া কাকলী নামে একজন বলেন, “সপ্তম তলায় আমাদের সাধারণ রোগীদের ওয়ার্ড। এখানে সপ্তাহে সাত দিন ছয়জন চিকিৎসক পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমানে কেউ নেই।”
এই তলায় ১৫ শয্যায় ৫ জন রোগী ভর্তি থাকার তথ্য দেন তিনি।

সিটি কেয়ার জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মূল কার্যক্রম অষ্টম তলায়।
হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে অভ্যর্থনা ডেস্কে দুজনকে পাওয়া গেলেও কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। এই হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
তৃতীয় তলার ঢাকা ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড অর্থোপেডিক ৪০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ আর দুদিন পর শেষ হবে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক, ২৪ জন নার্স ও ১২ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকার কথা। তবে হাসপাতাল ঘুরে একজন একজন চিকিৎসক আর তিনজন নার্সের দেখা মিলেছে।
এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ফারহানা আক্তার বলেন, “বর্তমানে ১২ জনের মতো রোগী ভর্তি আছেন। এখানে অস্ত্রোপচারও হয়। আর রোস্টারের ভিত্তিতে একজন চিকিৎসক থাকেন।”
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখানে ‘জরুরি রোগীদের’ ভর্তি করানো হয় না। মূলত ডাক্তার বেইজড হাসপাতাল এটা; ডাক্তাররাই রোগী নিয়ে আসেন।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।
এই নির্দেশনার ব্যাপারে ফারহানা আক্তার বলেন, “আমাদের এখানের যেসব চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেন, তারাই মূলত প্রয়োজনীয় জনবল নিজের মতো করে নিয়ে থাকেন।”
সপ্তম তলার হাই কেয়ার অর্থোপেডিকস অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালটি ২০ শয্যার।
এই হাসপাতাল ঘুরে ‘রিসিপশনিস্ট’ আর একজন মেডিকেল অফিসার ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।
সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, এই হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসক, ১২ জন নার্স এবং ৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন মো. লিটন নামে একজন। তিনি বলেন, ‘‘২০ শয্যার মধ্যে পাঁচটি কেবিন রয়েছে। বিভিন্ন সময় ছয়জন ডাক্তার থাকেন। বর্তমানে তাদের কেউ নাই। ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেই রোগী নিয়ে আসা হয়।’’

অষ্টম তলার সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি ৫০ শয্যার। এই হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুনে শেষ হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শর্ত অনুযায়ী, এখানে ১৫ জন চিকিৎসক, ৩০ জন নার্স এবং ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা।
এই হাসপাতালের ‘ইমারজেন্সি’ রোগীদের জন্য কক্ষ রয়েছে। কিন্তু এটাকে নিজের চেম্বার হিসেবে ব্যবহার করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক পরিচয় দেওয়া মাসুম বিল্লাহ।
তিনি বলেন, “বর্তমানে এখানে ১৩ জন রোগী রয়েছে। তিন জন মেডিকেল অফিসার আছেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। বিভিন্ন সময় করে চিকিৎসকরা আসেন এবং চলে যান।”
তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে ১২-১৩ জনের বেশি চিকিৎসক রয়েছেন। তবে তারা সব সময় থাকেন না। রাউন্ড দিয়ে চলে যান। বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা তাদের ফোন করে নিয়ে আসি।”
অনুমোদন না থাকলেও এই হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের এখানে ডায়ালাইসিস সরাসরি হয় না। কিন্তু সেটা করার মতো সেটআপ রয়েছে। বিভিন্ন সময় রোগীর জটিলতা অনুসারে আমরা সেটি করে থাকি।”
লাইসেন্সের মেয়াদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা লাইসেন্স নবায়নের টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু এখানো কাগজপত্র হাতে পাইনি।”
১৩ তলার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালটি ২০ শয্যার। এখানে ছয়জন চিকিৎক, ১২ জন নার্স ও ছয়জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “আমাদের এখানে সব সময় একজন ডিউটি ডাক্তার থাকেন। বাকি সময় রোগী অনুসারে ডাক্তার নিয়ে আসা হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকি।”
সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কম্প্রিহেনসিভ কিডনি কেয়ার সেন্টারের ১৬ শয্যার অনুমোদন রয়েছে।
হাসপাতালের লোকবলের বিষয়ে ব্যবস্থাপক জাকারিয়া হোসেন বলেন, “চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান মিলে ১৫ জন রয়েছে।”

সেবা নিয়ে যা বলছেন স্বজন-রোগীরা
হাই কেয়ার অর্থোপেডিকস অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সামনে বসে ছিলেন আনিসুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। তিনি জামাতার পা ভাঙার চিকিৎসা করাতে এসেছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অপারেশনের জন্য ৩০ হাজার টাকা চুক্তি হয়েছে। গতকাল অপারেশন হয়েছে। এখন মুটামুটি ভালো আছে।”
এই হাসপাতালের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় ঢাকায় থাকেন, তার মাধ্যমে এখানে এসেছি। চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা বা কথা, কিছুই হয়নি। হাসপাতালের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অপারেশনের টাকার চুক্তি হয়েছে।”
রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে জায়গা না পেয়ে তাদের অনেকেই এসব হাসপাতালে আসেন। অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও দালালদের খপ্পড়ে পরে এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে আসার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।
কারো কারো অভিযোগ, রোগী ভর্তির আগে খরচের একটা হিসাব দেওয়া হয়, কিন্তু ভর্তির পরেই সেটা বেড়ে যায়।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে বরিশাল থেকে এসেছেন ফখরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “আমার পাঁচ মাসের মেয়ে অসুস্থ। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি নেয়নি; অ্যাম্বুলেন্স খোঁজার সময় চালক এখানে আসার পরামর্শ দেন। আমরা শিশু হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, “আসার পর সেভাবে বিলের বিষয়ে বলা হয়নি। শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত শুধু ওষুধের বিল দিয়েছি ১২ হাজার টাকা। এনআইসিইউ বিল কত আসবে এখনো জানি না। তবে শুনতেছি এখানে নাকি অনেক বিল হয়।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা সাগর হোসেন বলেন, “আমার এক ভাইয়ের দুই পা কাটতে হবে। ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ‘চুক্তি’ করেছি।
“আমরা মূলত পঙ্গু হাসপাতালে ছিলাম। সেখানে অপারেশনে দেরি হবে বলে এখানে এসেছি। পঙ্গু হাসপাতালের একজন এখানে আসার জন্য বলেছিল, তারপর এখানে আসা।”
সিটি কেয়ারে কেনারনীগঞ্জ থেকে আসা মো. নাদিম ইসলাম বলেন, “আমার এক আত্মীয়ের ডায়ালাইসিস করানো লাগবে। সেটির জন্য এখানে নিয়ে আসছি। এখানে সাড়ে ৫ হাজার টাকা লাগবে ডায়ালাইসিস করতে।”

সরকার ও বিশ্লেষকরা যা বলছেন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আবু হোসাইন মো. মইনুল আহসান বলেন, “আসলে এক ভবনে একাধিক হাসপাতাল হওয়ার বিষয়ে কোনো নিয়মের বাধা নেই। তবে চিকিৎসা সেবার মান কতটা ভালো এবং নিয়ম মেনে করতে পারছে কিনা, সেটা আসল বিষয়।
‘‘বর্তমানে ঢাকার বাইরে আমরা বিভাগীয় শহরে অভিযান পরিচালনা করছি। যার যে ধরনের সমস্যা আছে, সেসব দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই ঢাকার ভেতরে আবার অভিযান চালানো হবে। তখন অবৈধ বা নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’’
শ্যামলীর ওই হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বলেন, "ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ওই ফ্লোরে আরো যে দুটো হাসপাতালে রয়েছে, সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “কোনো হাসপাতাল যদি অনুমোদিত পর্যায়ের সেবা দিতে না পারে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
“হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎক না থাকলে সেগুলাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হোক। এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনিটরিং করে করতে পারে। কারণ বড় শহরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেয়ার নেই।”
তার মতে, “বিশেষায়িত সেবার নাম নিয়ে হাসপাতাল খুলে সেবা দিতে পারে না, তাদের রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন
হাসপাতালের 'অক্সিজেন লাইনে লিকেজ', শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
শিশুর মৃত্যু: বেবি কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তলব