Published : 24 Jun 2026, 11:46 PM
রাজধানীর শ্যামলীতে বেসরকারি বেবি কেয়ার হাসপাতালে ‘অক্সিজেনের লাইনে লিকেজের’ কারণে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে যে অভিযোগ ওঠেছে সে বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার বক্তব্য শোনার পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আবু হোসাইন মো. মইনুল আহসান।
বুধবার রাতে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের টিম ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আগামীকাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য শুনে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় 'শ্যামলী বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালে' চার মাস বয়সি শিশুটি মারা যায়।
শিশুটির বাবা মো. ফারুক তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য অক্সিজেন লিকেজকে দায়ী করেছেন।
তার অভিযোগ, “চিকিৎসায় আমার বাচ্চাটা ভালো হচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণে আমার বাচ্চাটা মারা গেছে, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করছে না।”
হাসপাতালটির চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, "বাচ্চাটির অবস্থা খারাপ হতে থাকলে আমরা তাকে ভেন্টিলেশনে দিই। এ সময় বাচ্চার বাবাকে ডেকে যে সময় কথা বলছিলাম তখন একটা বিকট শব্দ হয়। এরপর জানতে পারি অক্সিজেন লাইনে লিকেজ হয়েছে।
“তখনই আমরা বাচ্চাটাকে নিয়ে এইচডিইউতে যাই। সেখানে থেকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। একটু পরে সে মারা যায়।”
এই লিকেজের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন, “নাহ। বিষয়টা এরকম না। বাচ্চাটা হাম জটিলতা থেকে মুক্ত হয়ে ১৫-২০ দিন আগে বাসায় যায়। এরপর সে হাম পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত হলে তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। বর্তমান সময়ে কিন্তু হাম এর চেয়ে হাম পরবর্তী জটিলতায় বাচ্চাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে বেশি এবং এতে মৃত্যু হচ্ছে বেশি। শিশুটির বিষয় তার অভিভাবকদের প্রতি ক্ষণে ক্ষণে অবগত করা হয়েছে।”
শিশু মৃত্যুর সঙ্গে অক্সিজেন লিকেজের ঘটনার বিষয়টিকে কাকতালীয় বলে দাবি করেন এই চিকিৎসক।
তবে অক্সিজেন লিকেজের ঘটনা ধরা পড়ার পর হাসপাতালে থাকা বাকি পাঁচটি শিশুকে ওপরের তলায় সিটি কেয়ার নামে আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।