Published : 25 Jun 2026, 12:33 AM
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির পর কূটনৈতিক তৎপরতা চলতে থাকার মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
নিজেদের অস্ত্রভান্ডারের ‘সুফল’ বোঝাতে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে এ দেশটির অবস্থাও হত গাজার মতো। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত।
একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ইরান কখনও আলোচনা করবে না। পাকিস্তান সফরে রয়েছেন পেজেশকিয়ান। সেখানেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
পেজেশকিয়ানের কথায়, ‘‘আমাদের প্রতিরক্ষার জন্য যে সব ক্ষেপণাস্ত্র আছে, সেগুলো যদি না থাকত, তাহলে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর গাজার মতোই নির্বিচারে হামলা চালাত। বৃদ্ধ, তরুণ বা শিশু কেউ রক্ষা পেত না।’’
তার স্পষ্ট বার্তা, “ইরান কোনও অবস্থাতেই নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা করবে না।”
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলছেন, তার দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার কোনও প্রস্তাব নেই এই সমঝোতা স্মারকে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি উল্লেখ নেই বলে জানান তিনি। শরিফ বলেন, “আলোচনায় দ্বিচারিতা থাকতে পারে না। কিছু দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, আর ইরানের থাকবে না, তা হতে পারে না।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযানে সামিল ছিল ইসরায়েলও। হামলার পাল্টা জবাব দেয় ইরান। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলও ছিল তাদের হামলার নিশানা।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনার পর গত ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান। পরে আরও আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশ সমঝোতা চুক্তি সই করে।