Published : 24 Jun 2026, 02:45 AM
রাজধানীর শ্যামলীতে একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে 'অক্সিজেনের লাইনে লিকেজের' কারণে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় 'শ্যামলী বেবি কেয়ার' নামে একটি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
বেবি কেয়ার হাসপাতালে মারা যাওয়া চার মাসের শিশুটির বাবা মো. ফারুক তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য অক্সিজেন লিকেজকে দায়ী করছেন।
তার অভিযোগ, "চিকিৎসায় আমার বাচ্চাটা ভালো হচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণে আমার বাচ্চাটা মারা গেছে, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করছে না।"
গ্যাস লিকেজের ঘটনার পরে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা বাকি পাঁচটি শিশুকে ওপরতলার আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সময়ই হাম পরবর্তী জটিলতা আক্রান্ত চার মাস বয়সি ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি হাম পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত ছিল। তার অবস্থা বিকাল থেকেই খারাপ হচ্ছিল। অক্সিজেন লাইনে লিকেজের সঙ্গে শিশু মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।
কোরবানি ঈদের আগে ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে কারিগরি ত্রুটির কারণে ছয়টি শিশুর মৃত্যু অভিযোগ ওঠার পর চলতি মাসে সরকার সেই হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়।

শ্যামলীতে মিরপুর সড়কের পাশে 'রূপায়ণ শেলফোর্ড' নামের একটি ২০তলা ভবনের সপ্তম তলার অর্ধেক অংশে শিশুদের এই বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। এ ভবনে সব মিলিয়ে পাঁচটি হাসপাতাল আছে।
একই ভবনে আছে আবাসিক হোটেল, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি দপ্তরও।
মারা যাওয়া শিশুটির বাবা ফারুক এ নিয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না। সন্তানের লাশ নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফিরে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন তিনি।
এদিকে হাসপাতালটির চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "বাচ্চাটির অবস্থা খারাপ হতে থাকলে আমরা তাকে ভেন্টিলেশনে দিই। এ সময় বাচ্চার বাবাকে ডেকে যে সময় কথা বলছিলাম তখন একটা বিকট শব্দ হয়। এরপর জানতে পারি অক্সিজেন লাইনে লিকেজ হয়েছে।
"তখনই আমরা বাচ্চাটাকে নিয়ে এইচডিইউতে যাই। সেখানে থেকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। একটু পরে সে মারা যায়।"

এই লিকেজের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন, "নাহ। বিষয়টা এরকম না। বাচ্চাটা হাম জটিলতা থেকে মুক্ত হয়ে ১৫-২০ দিন আগে বাসায় যায়। এরপর সে হাম পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত হলে তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। বর্তমান সময়ে কিন্তু হাম এর চেয়ে হাম পরবর্তী জটিলতায় বাচ্চাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে বেশি এবং এতে মৃত্যু হচ্ছে বেশি। শিশুটির বিষয় তার অভিভাবকদের প্রতি ক্ষণে ক্ষণে অবগত করা হয়েছে।"
শিশু মৃত্যুর সঙ্গে অক্সিজেন লিকেজের ঘটনার বিষয়টিকে কাকতালীয় বলে দাবি করেন এই চিকিৎসক।
তবে অক্সিজেন লিকেজের ঘটনা ধরা পড়ার পর হাসপাতালে থাকা বাকি পাঁচটি শিশুকে ওপরের তলায় সিটি কেয়ার নামে আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছে।