Published : 29 Jun 2026, 08:28 AM
গ্রুপ পর্বে কিলিয়ান এমবাপের গোল চারটি। হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছেন উসমান দেম্বেলেও। একটি করে গোল ব্রাডলে বার্কোলা ও দিজিরে দুঁয়ের। এছাড়াও ফ্রান্সের আক্রমণভাগে আছে মাইকেল ওলিসে, হায়ান শেহকি ও মার্কাস থুরাম।
আক্রমণভাগের মূল ‘ত্রয়ী’ অবশ্য এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসে। এই তিন জন নিজেদের সেরাটা একসাথে মেলে ধরতে পারেননি এখনও। একসাথে জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের জন্য কী পরিস্থিতি হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ অবশ্য ধারণা দিয়ে রাখলেন। সুইডেনের সাবেক তারকার চোখে ফ্রান্সের বর্তমান দলটি ‘পরিপূর্ণ’ এবং প্রতিপক্ষের জন্য ‘ভয়ঙ্কর’। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যে প্রতিপক্ষের জন্য আসলেই ভয়ঙ্কর, তা তারা গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ১০ গোল করে প্রতিপক্ষদের বুঝিয়ে দিয়েছে কিছুটা হলেও।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে, ফ্রান্সের আক্রমণ ‘ত্রয়ী’র এক-একজন আলো ছড়াচ্ছেন এক-এক ম্যাচে। নরওয়ের বিপক্ষে যেমন, ওলিসে আগের ম্যাচের তুলনায় কিছুটা আড়ালে ছিলেন। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে পাদপ্রদীপের আলো নিজের দিকে টেনে নেন দেম্বেলে।
আগের দুই ম্যাচের তুলনায়, এই ম্যাচে ফ্রান্সের খেলায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও ছিল। সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে ওলিসে ছিলেন আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি, এমবাপের সাথে তাৎক্ষণিক বোঝাপড়ায় দারুণ জুটি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে কিছুটা ধুঁকছিলেন দেম্বেলে।
চার দিন পর, ইরাকের বিপক্ষে দেম্বেলে গোলের খাতায় নাম তুললেন। কিছুটা উন্নতির ছাপও দেখালেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল, ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বাকিদের সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারছেন কিনা। যেহেতু, ওলিসে-এমবাপের জুটি আর বেশিও জমাট দেখাচ্ছিল।
দিদিয়ে দেশোঁ কখনই তার তিন ফরোয়ার্ডকে একসাথে সামর্থ্যের সেরা অবস্থায় পাননি, তবুও প্রতিপক্ষের জন্য দলটি বিপজ্জনক প্রমাণিত হয়েছে, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই। তার দল গোল করেছে ১০টি, ম্যাচগুলো জিতেছে স্বাচ্ছন্দ্যে। ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে উঠেছে নকআউট পর্বে।
এটা সম্ভব হওয়ার কারণ, এই ত্রয়ীর মধ্যে একজন তার মানের তুলনায় নিচু পারফরম্যান্স করলেও, সবসময়ই বাকিরা দারুণভাবে এগিয়ে এসেছে। ফলে কমতিটুকু কখনই সেভাবে অনুভব করতে হয়নি ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নদের।
এখানেই প্রতিপক্ষের জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে, এই ত্রয়ী যদি, একসাথে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে জ্বলে ওঠে, তাহলে? কেননা, কাগজে কলমে, তাদের মান প্রায় কাছাকাছি এবং তারা পরস্পরের পরিপূরক। ফলে, এই ত্রয়ীর এক হয়ে ওঠা মানে, ফ্রান্সের আক্রমণভাগ একইসাথে সৃষ্টিশীল, ধারাল ও ক্ষিপ্র।
এমবাপে যেমন ক্লান্তিহীন ছোটাছুটি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়াতে পারেন, সেখানে ভয়ঙ্কর গতিময় দেম্বেলে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে আক্রমণ শাণাতে পারদর্শী। ওলিসে ধীরস্থীর, সৃজনশীল এবং চূড়ান্ত রক্ষণচেরা পাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিখুঁত।
বাঁ দিকে, দুয়ে ও বার্কোলা পালাক্রমে শুরুর একাদশে খেলছেন। একজন বিশ্রামে থাকলে, অন্যজন থাকছেন মাঠে। যে-ই মাঠে থাকছে, শেহকি ও থুরামের মতো আক্রমণভাগের সঙ্গে যোগসূত্রের কাজটি করেছে সাবলীলভাবে। এ কারণেই ইব্রাহিমোভিচ ফ্রান্সকে ‘পরিপূর্ণ দল’ মানছেন।
অবশ্য, এই ফ্রান্সেরও আছে সীমাবদ্ধতা। তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠার মানসিকতা প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে। ফুলব্যাকরা উপরে উঠে আসায়, আক্রমণভাগের সবাই অতিরিক্ত স্বাধীনতা পাওয়ায়, দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের ওপর প্রচণ্ড চাপও পড়ছে।
অহেলিয়া চুয়ামেনি, মানু কোনো বা আদ্রিওঁ রাবিওঁ- এই তিন জনের মধ্যে যে বা যারাই মাঠে থাকুক না কেন, প্রায়ই বড় অংশ জুড়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণ আটকাতে এগিয়ে আসতে হয়, যাতে রক্ষণভাগে একটু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও দূর্বলতা যেন প্রকাশ না পায়। এখন পর্যন্ত এই ঝুঁকি নিচ্ছেন দেশোঁ।
তবে, মূহর্তের মধ্যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো আক্রমণভাগ থাকায়, ফ্রান্স ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে উঠছে। এ কারণে, আক্রমণে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনে, রক্ষণের নিরাপত্তা কিছুটা বিসর্জন দিতেও যেন প্রস্তুত ফ্রান্স কোচ।
শেষ বত্রিশে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সুইডেন। এই বাধা পেরুতে পারলে, শেষ ষোলোয় তারা মুখোমুখি হতে পারে জার্মানির। তবে, সামনে যে দলই পড়ুক, এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ী একসাথে সেরাটা মেলে ধরলে, ফ্রান্সকে আটকানো যে কোনো দলের জন্যই যেন প্রায় অসম্ভব।