Published : 21 Jul 2026, 05:48 PM
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে না পারায় বিএনপি সরকারেরও ব্যর্থতা দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
বিএনপি সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মনোভাব তুলে ধরেন।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে বর্তমান সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে?
জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “ঘোষিত ক্ষতিপূরণ যেন পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে, সে ব্যাপারে অবশ্যই সরকার কাজ করবে। এটা আমি কনফার্ম করছি এবং যেসব প্রস্তাবনার কথা বলছেন, সেগুলোও নিশ্চয়ই কাজ হবে। কারণ এটা তদন্ত হয়েছে, তদন্তের রিপোর্ট তৈরি হয়েছে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই সরকার নেবে।
“আর বিশেষ করে আমি আবারও বলছি জোর দিতে চাই—ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলব এবং যেন সেটা দ্রুত পৌঁছে যায়, সেই চেষ্টা নিশ্চয়ই আমরা করব।
“এবং এটাও একটু দুর্ভাগ্যজনক যে, একটা বর্ষপূর্তিতে এসে আমাদেরকে স্মরণ করতে হচ্ছে—এই পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ পায়নি। আমি-আমাদেরও দায়িত্বে আসার পাঁচ মাস হয়ে গেছে, এটা আমাদেরও খানিকটা ব্যর্থতা নিশ্চয়ই। আমরা এটা রিকভার করার চেষ্টা করব।”
গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়, যাদের বেশির ভাগই শিশু। দুর্ঘটনার পরদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই ২২ জুলাই নিহতদের পাঁচ কোটি টাকা করে এবং আহতদের এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করা হয়েছিল।
পরে ২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় আহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে রিট চলাকালে সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর বাধ সাধেন ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য, ক্ষতিপূরণের এই অর্থ ‘বাস্তবসম্মত’ নয়। এ নিয়ে সরকারের তরফেও ‘দেন-দরবার’ চলে। তবে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বলছি, ইভেন আজও আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি সেটা হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলব।
“আমাদের এই মর্মান্তিক ঘটনা, মানে টাকা দিয়ে কারো কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না আসলে…কিন্তু তার পরও রাষ্ট্র তার সক্ষমতার মধ্য থেকে যতটুকু এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায়, সেই চেষ্টা যেন করে, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিজেই বলব।”
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মাইলস্টোনে নিহত শিশুদেরকে শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্তির দাবি জানিয়েছে তাদের পরিবার…
তখন তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সবকিছু নিয়ে কথা বলব। আমি ঠিক জানি না শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্তি...মানে ইটস অ্যান অ্যাকসিডেন্ট এবং আমাদের শিশুরা মারা গেছেন। এখন অ্যাকসিডেন্ট তো আমাদের আরও অনেক হয়। অনেক মানুষ অ্যাকসিডেন্টে মারা যান। সো আমি জানি না।
“আমরা এই ব্যাপারটা—উনাদের যত দাবি আছে, আমি এভাবেই বলব, চেষ্টা করব; তাদের সব দাবি নিয়ে প্রয়োজনে তাদের কোনো প্রতিনিধিদের সাথে সরকারের কোনো প্রতিনিধি বসে যেন, এটা সুরাহা করেন।