Published : 12 Jul 2026, 03:43 AM
দারুণ এক স্বীকৃতি পেলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, কেভিন পিটারসেন ও আঞ্জুম চোপড়া। এডিনবরায় জমকালো আয়োজনে আইসিসি হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত করা হলো সাবেক এই তিন ক্রিকেটারকে।
আইসিসি শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় এই খবর। এবারের তিন জনকে দিয়ে হল অব ফেম-এর সদস্য এখন মোট ১২৫ ক্রিকেটার।
ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয় সৌরভকে। ভারতের হয়ে ১১৩ টেস্ট ও ৩১১ ওয়ানডে খেলেছেন তিনি।
১৯৯৬ সালে তার টেস্ট অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেঞ্চুরি করেন প্রথম দুই টেস্টেই, আরও নির্দিষ্ট করে বললে প্রথম দুই ইনিংসে। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ১৬ সেঞ্চুরিতে ৪২.১৭ গড়ে তার রান সাত হাজার ৭২১।
ওয়ানডেতে ২২ সেঞ্চুরিতে ৪১.০২ গড়ে তার রান ১১ হাজার ৩৬৩। এই সংস্করণে সাচিন টেন্ডুলকারের সঙ্গে সফল উদ্বোধনী জুটি গড়ে তোলেন তিনি। এই দুজন ১৩৬ বার একসঙ্গে ওপেন করেছেন এবং ২১টি শত রানের জুটিসহ রেকর্ড ছয় হাজার ৬০৯ রান যোগ করেছেন।
অধিনায়ক হিসেবেই সৌরভের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০০০ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে টালমাটাল ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেন তিনি। দেশের বাইরে ভারতকে এক অপ্রতিরোধ্য দলে পরিণত করেন। তার অধিনায়কত্বে ভারত ২০০২ সালে ইংল্যান্ডে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজ জেতে এবং সেই বছরের শেষের দিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০০৩ সালে দলকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলেন তিনি, যেখানে তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায়।
টেস্ট ক্রিকেটে সৌরভের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক ২০০০-০১ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর, ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় ১-১ ড্র করে ভারত।
পরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন সৌরভ। মর্যাদাপূর্ণ আইসিসি হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত তিনি।
“ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় আমার নাম থাকাটা আমার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা এবং এই খেলার বেশ কয়েকজন কিংবদন্তির সঙ্গে খেলা ছিল সৌভাগ্যের এবং এখন এভাবে স্বীকৃতি পাওয়াটা সত্যিই বিশেষ কিছু। এই খেলা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আশা করি, আগামী দিনগুলোতেও এই খেলার সেবা করে যেতে পারব।”

স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান পিটারসেন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলেন ১০৪টি। ৪৭.২৮ গড়ে আট হাজার ১৮১ রান করেন তিনি ২৩ সেঞ্চুরিতে। তার প্রথম টেস্ট সিরিজে, ২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজের শেষ দিনে ওভালে স্ট্রোক-সমৃদ্ধ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে ১৭ বছর পর, ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে, ২৮ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতে টেস্ট সিরিজ জয়েও তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সুইচ হিটসহ দৃষ্টিনন্দন সব শটের জন্য পরিচিত পিটারসেন ওয়ানডে খেলেন ১৩৬টি। ৯ সেঞ্চুরিতে ৪০.৭৩ গড়ে রান করেন চার হাজার ৪৪০। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
আইসিসি হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত হয়ে খুবই খুশি পিটারসেন।
“এটা একজন ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। আমি জানি, এই অনুভূতি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগবে। তিন সংস্করণেই খেলতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি এবং অপরিসীম গর্ব ও সন্তুষ্টি নিয়ে আমার ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাই আমি।”

বাঁহাতি ব্যাটার আঞ্জুম তিন সংস্করণেই ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৫ সালে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ওয়ানডেতে এক হাজার রান করা ও ১০০ ম্যাচ খেলা প্রথম ভারতীয় নারী ক্রিকেটার তিনি। ২০০০ ও ২০০৫ সালের উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তিনি ভারতের হয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে ১২৭ ওয়ানডেতে রান করেন দুই হাজার ৮৫৬।
আঞ্জুম টেস্ট খেলেছেন ১২টি, মোট রান ৫৪৮ রান, সর্বোচ্চ ইনিংস ৯৮। ২০০৬ সালে টন্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে ইনিংসটি খেলেন তিনি। ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতের টেস্ট জয়েও তিনি নেতৃত্ব দেন।
৪৯ বছর বয়সী আঞ্জুম ফিরে তাকালেন তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সময়ে।
“এক ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে বেড়ে ওঠার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের কিংবদন্তি ও স্মরণীয় সাফল্যের গল্প শুনে এসেছি। ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্নটা খুব অল্প বয়সেই আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। আমার বাবা-মা, শিক্ষক এবং কোচরা আমাকে বড় কিছু ভাবার জন্য উৎসাহিত করেন, যারা কঠিন সময়ে সবসময় আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
“ক্রিকেট প্রশাসকদের কাছ থেকেও সময়মতো সমর্থন পেয়েছি, যার ফলে খুব গর্বের সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সি পরতে পেরেছি। খেলার সর্বশ্রেষ্ঠদের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার এই সম্মান তাদের সকলের জন্য একটি পুরস্কার, যারা আমার ক্যারিয়ার গড়ায় সাহায্য করেছেন।”