Published : 15 Jun 2026, 09:32 AM
মেহেদি হাসান মিরাজের বয়স তখনও আট হয়নি। তবে টিভি পর্দায় ঐতিহাসিক জয়টি দেখার স্মৃতি তার মনে পড়ে। সেই যে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ! সেই জয়ের ২১ বছর পর এবার মিরাজের নেতৃত্বেই ধরা দিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়। এবার শুধু একটি ম্যাচ নয়, সিরিজ জয়। বাংলাদেশের টানা চতুর্থ সিরিজ জয়। তবে এসব সিরিজ কেবলই ওপরে ওঠার সিড়ি। অধিনায়ক বললেন, বড় আসরে বড় কিছু করার জন্যই পরিকল্পনার পথ ধরে ছুটছেন তারা।
আট মাস আগেও ওয়ানডে সংস্করণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ছিল আঁধার। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল অনিশ্চয়তার দোলাচলে। কিন্তু টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে শঙ্কা দূর হয়েছে অনেকটাই।
আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এখনও। তবে অতি নাটকীয় কিছু না হলে, ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য বাছাই খেলতে হবে না মিরাজদের।
অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে অবশ্য র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডকে টপকে আটে উঠে আসতে পারত বাংলাদেশ। সাতে ওঠার হাতছানিও ছিল সামনেই। আপাতত সেসব হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ও তাদেরকে কাছ থেকে সমীহ আদায় করতে পেরে খুশি মিরাজ।
“সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। অধিনায়ক হিসেবে অবশ্যই আমার কাছে ভালো লাগার জিনিস এগুলো। পাশাপাশি, যারা ক্রিকেট খেলা দেখছে এবং আপনারা যারা আছেন, সবাই ভালো অনুভব করছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ থাকে।”
“তারা কিন্তু আমাদেরকে নিয়ে কথা বলছে, প্রশংসা করছে বোলারদেরকে নিয়ে, ব্যাটসম্যানদেরকে নিয়ে এবং তাদেরকে যে আমরা কঠিন সময়টা দিচ্ছি, সেটা নিয়ে তারা আমাদেরকে সেই সম্মানটা দিচ্ছে। এটা অবশ্যই উন্নতির একটা লক্ষণ এবং আশা করি, এভাবে যদি চালিয়ে করতে পারি, আরও ভালো একটি দল হবে।”
গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এই বছর পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েছিল মিরাজের দল। সেই পথ ধরে এবার সিরিজ জয় ধরা দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে।
এবারের জয়ের আনন্দ একটি অন্যরকমও। ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম দেশ, বরারই দারুণ পেশাদার দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এমন জয় মিরাজের কাছে বিশেষ কিছু।
“এটা অবশ্যই অনেক স্পেশাল। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আগে আমরা কখনোই সিরিজ জিতিনি। একটা ম্যাচ আমরা হয়তো জিতেছিলাম, সেই ২০০৫ সালে। আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমি দেখেছিলাম ম্যাচটা। আমার এখনও মনে আছে। এবার যেহেতু আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জিতেছি, এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা অর্জন।”
“আরও সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই মনে করি যে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা আমাদেরকে নিয়ে প্রশংসা করছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে এবং বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে, উইকেট নিয়ে, ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে। এটা আমাদের একটা বিরাট অর্জন।”
এসব অর্জনেই অবশ্য তৃপ্ত থাকতে চান না মিরাজ। এশিয়ান ও বিশ্ আসরে বড় কিছু করতে না পারার যে আজন্ম আক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটে, সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিতেই এই দল ছুটছে বলে জানালেন অধিনায়ক।
“আমাদের কিন্তু দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। এটা আসলে একদিনে সম্ভব নয়। এর আগেও বলেছি, একটা দল যখন আমরা (গঠন) করি, তখন অবশ্যই আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে যে, আমরা কীভাবে দলটাকে বানাব এবং কী কম্বিনেশনে আমরা খেলব।”
“গত এক বছর আমরা ওভাবেই পরিকল্পনা করেছি, সামনে আমাদের বিশ্বকাপ আছে, কোন পজিশনে কাকে সেট করব এবং কোন পজিশনে একটা ক্রিকেটারকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেব। এটা আমরা করেছি এবং বিভিন্ন সময় আপনারাও দেখেছেন যে, বিভিন্ন পজিশনেও খেলতে হয়েছে অনেক ক্রিকেটারকে। এটা শুধু আমাদের (দ্পিাক্ষিক) সিরিজ না, সামনে যে বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ আছে, সেটাকে লক্ষ্য করেই আমরা এগোতে চাচ্ছি এবং সেই পরিকল্পনাগুলো সাজাচ্ছি এবং আশা করি যে, আমরা ভালো একটা দলে পরিণত হয়েছি এখন।”
বাংলাদেশের পরের ওয়ানডে সিরিজ আগামী মাসে জিম্বাবুয়েতে।