Published : 15 Jun 2026, 08:14 AM
প্রথম দুই ম্যাচেও প্রশ্নটি টুকটাক উঠেছে। শেষ ম্যাচে তা রূপ নিয়েছে বিস্ময়ে। রিশাদ হোসেন কেন একাদশে নেই! সিরিজ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাখ্যা করলেন তাকে খেলানোর কারণ। এই লেগ স্পিনারকে ভবিষ্যতে খেলানোর আশ্বাসও দিয়ে রাখলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টির মতো বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে এখনও অতটা অপরিহার্য হয়ে ওঠেননি রিশাদ। তবে দারুণ কিছু পারফরম্যান্স তিনি এই সংস্করণেও মেলে ধরেছেন। দুই সিরিজ আগেই তিনি ছিলেন ম্যান অব দা সিরিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই সিরিজে এক ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন ৬টি।
পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে তার প্রাপ্তি ছিল চার উইকেট। সবশেষ সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ওভারপ্রতি ৪.৩৩ রান দিয়ে উইকেট নেন তিনটি।
ওই সিরিজের শেষ ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। সেই ম্যাচে তার পরিবর্তে খেলে ১০ ওারে ৭০ রান দিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেও একাদশে ফেরা হয়নি রিশাদের। প্রথম দুই ম্যাচে অধিনায়ক মিরাজের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে সঙ্গী ছিলেন সেই তানভির।
চোটের কারণে মিরাজের খেলা নিয়ে অনশ্চিয়তা থাকায় শেষ ম্যাচের আগের দিন স্কোয়াডে যোগ করা হয় শেখ মেহেদি হাসানকে। সাড়ে তিন বছর পর তিনি একাদশে জায়গা পেয়ে যান মিরাজ শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারায়।
রিশাদের সুযোগ না পাওয়ার প্রশ্ন ওঠা তাই প্রত্যাশিতই। অন্তত সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ ম্যাচে তাকে একাদশে দেখার আশায় ছিলেন অনেকে। এ দিন যখন রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া জুটি গড়ছিল বারবার, তখন মাঝের ওভারগুলোতে একজন উইকেট শিকারি বোলারের অভাব অনুভূত হয়েছে অনেকটুকুই। এই ম্যাচে বাংলাদেশের তিন স্পিনারই ছিলেন মূলত রান আটকানোর বোলার।
রিশাদ কেন কোনো ম্যাচেই খেলার সুযোগ পেলেন না, সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করলেন অধিনায়ক মিরাজ।
“যেহেতু বললাম যে, আমরা দল গোছাচ্ছি এবং আমাদের পরিকল্পনা আছে। বিগত দিনে আমরা দেখেছি অস্ট্রেলিয়া বাঁহাতি স্পিনে একটু ভোগান্তিতে পড়ে এবং ওদের কিছু টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আছে বাঁহাতি। কাজেই আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা ওই কম্বিনেশনটা করেছি এবং হ্যাঁ, রিশাদ অবশ্যই আমাদের দলের জন্য অনেক গুরুত্পূর্ণ একজন ক্রিকেটার এবং আমি মনে করি, সামনে যে সিরিজ আছে, অবশ্যই তার সেই সুযোগ আসবে।”
মিরাজের কথায় ফুটে উঠছে, অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে বাঁহাতের আধিক্যের কারণে একাদশে জায়গা পেয়েছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদি, বাঁহাতি স্পিনে অস্ট্রেলিয়ার অস্বস্তিকে ভাবনায় রেখে সিরিজজুড়ে খেলানো হয়েছে তানভির ইসলামকে। যদিও অস্ট্রেলিয়ানদের তেমন কিছু পরীক্ষা নিতে পারেননি তানভির। দ্বিতীয় ম্যাচে দুটি উইকেট নিতে পারলেও অন্য দুই ম্যাচে ছিলেন উইকেটবিহীন।
রিশাদকে যে এই সিরিজে নাও খেলানো হতে পারে, সেটির আভাস আগেই দিয়েছিলেন অধিনায়ক মিরাজ। সিরাজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি একাধিকবার বলেছেন, ওয়ানডে বোলিংয়ে রিশাদকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং তাকে তে হবে আরও ‘প্রোঅ্যাক্টিভ।’
মিরাজ বললেন, বেশ কিছু পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নানা ধরনের কম্বিনেশন তারা বাজিয়ে দেখছেন। মূলত এসিসি ও আইসিসি আসরগুলোতে ভালো করতে চান তারা।
“বিভিন্ন সময় আপনারাও দেখেছেন অনেক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন পজিশনেও খেলতে হয়েছে। এটা শুধু সিরিজ না, সামনে যে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ আছে, সেটাকে লক্ষ্য করেই এগোতে চাচ্ছি। সেই পরিকল্পনাগুলো সাজাচ্ছি এবং আশা করি, একটা ভালো দলে পরিণত হয়েছি এখন।”