আমেরিকায় কখনও যাইনি, যাবও না: বিদায়ী প্রধান বিচারপতি

“রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে, কারও অনুকম্পায় নয়,” বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Jan 2024, 12:07 PM
Updated : 15 Jan 2024, 12:07 PM

রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জনের উপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বললেন, ওই দেশটিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার নেই।

দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট থেকে সোমবার বিদায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ বলেন, “রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে, কারও অনুকম্পায় নয়। স্বাধীনতার সময় যারা বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন বিরোধিতা করছে। তাই এই ভিসা নীতিতে আমরা বিচলিত নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনও আমেরিকা যাইনি, ভবিষ্যতেও কখনও যাব না।”

সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হবে এমন ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের ঢোকা নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি প্রণয়নের পর তা প্রয়োগও শুরু করেছে ওয়াশিংটন, যা নিয়ে বাংলাদেশে চলছে তুমুল আলোচনা। এর মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্নজনের নাম আসছে, যাদের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সোমবার বিদায় নেন। এদিন কর্মব্যস্ত দিন কাটান তিনি। এরপর বিকালে তার সঙ্গে দেখা করেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের বিচারকরা। এরপর হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিদায় নেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন তিনি। তখন সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়; প্রধান বিচারপতির দপ্তরের কর্মকর্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কোলাকুলি শেষে তার জন্য রাখা গাড়ির দিকে এগিয়ে যান প্রধান বিচারপতি। তাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

নিজের শেষ কর্মদিবসে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিভিন্ন ফাইল ও নথিতে স্বাক্ষর করেন। বিকাল সাড়ে ৪টার সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ১০ জেলার আদালতে বিচারপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধন করেন।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)