২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ হাজার কিলোমিটার দূরে

দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ হাজার কিলোমিটার দূরে

স্যাটেলাইট ছবিতে গভীর নিম্নচাপের অবস্থান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 May 2023, 10:23 AM

Updated : 12 May 2023, 11:53 AM

বাংলাদেশ উপকূল থেকে হাজারখানেক কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ফুঁসতে থাকা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় এ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, যা দমকা আর ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

আবহাওয়াবিদরা যেমন ধারণা করেছিলেন, মোখার গতিপথ তেমনি আছে। এভাবে চললে আগামী রোববার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের কিয়াউকপিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে উপকূলে আঘাত হানার সময় মোখার বাতাসের শক্তি থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার বলছে, সে সময় ২০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে মোখার ঘূর্ণিবাতাসের শক্তি। 

ঘূর্ণিঝড় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সময় প্রচুর বৃষ্টি ঝরাবে। সেই সঙ্গে উপকূলীয় নিচু এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ২.৭ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পরে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার সকাল ৬টায় এ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টা এ ঝড় এগিয়েছে মোটামুটি ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতিতে। বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তর উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে হতে মোখা আরও ঘনীভূত হতে পারে।

Image

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের মানচিত্রে সাগরে গভীর নিম্নচাপের অবস্থান ও গতিপথ

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এই সংকেতের মানে হল, দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ের কবলে পড়ছে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথের মধ্যে বিপদে পড়তে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। উপকূলে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঝড় মোকাবেলার কাজের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্থলভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে চলার মধ্যে সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোসাগর ও এর সংলগ্ন আন্দামান সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়।

Image

হিমাওয়ারি ৯ স্যাটেলাইটের ছবিতে গভীর নিম্নচাপের অবস্থান।

তখন থেকে এর আরও ঘনীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। মঙ্গলবার এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে পরিণত হয়। বুধবার এটি গভীর নিম্নচাপ হয়েই সাগরে ছিল। বৃহস্পতিবার তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এসকাপের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এটি ইয়েমেনের দেওয়া ‘মোখা’ নাম পায়।

বৃহস্পতিবার রাতে মোখা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোসাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানান হয়। শুক্রবার সকালে সেটা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পায়। 

পুরনো খবর

মোখা এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়

সাগরে ঘূর্ণিঝড় মোখা, নজর বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলে

গভীর নিম্নচাপটি এগোচ্ছে ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার গতিতে

সাগরে গভীর নিম্নচাপ, ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ের আভাস

সাগরের লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ

ডাঙায় তাপপ্রবাহ, সাগরে লঘুচাপ

লঘুচাপের আগে শনিবার তাপপ্রবাহের আভাস