ফারদিনের মৃত্যু: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আরও সময়
তার বাবার নারাজি আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়।
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার সময় দুই দফা পিছিয়েছে।
বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আলী হায়দার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে আগামী ৩০ জুলাই দিন করে দেন।
এর আগে ২৪ মে মামলাটির প্রতিবেদন দেওয়ার দিন ছিল। তখন তা জমা না দেওয়ায় বুধবার দিন ঠিক করে দিয়েছিল আদালত। এদিনেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় এবার নতুন তারিখ এল।
২০২২ সালের ৭ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বুয়েটের পূরকৌশল বিভাগের ছাত্র ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে ৯ নভেম্বর রাতে তার বাবা নূরউদ্দিন রানা রামপুরা থানায় মামলা করেন।
এদিকে মামলার অধিকতর তদন্তে কাজ শুরু হয়েছে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নুর উদ্দিন।
বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, সিআইডির কেউ এখনও তার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। এমনকি সংস্থাটির কাছে নিজে থেকে একবার যাওয়ার পরও তিনি কোনো সাড়া পাননি।
“সিআইডির কেউ আমার সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কথা বলছেন না। কেউ আমাকে ডাকছেনও না। তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত আদৌ শুরু করল কি না আমি সে বিষয়ে অন্ধকারে আছি,” যোগ করেন তিনি।
এর জবাবে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বলেছেন, “আমার উর্ধ্বতন স্যারেরা তদন্ত শুরু করেছেন, আমাকে পথ নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করছি।
“তাছাড়া কোনো কোনো সিসি ক্যামেরা ভিডিও ১৫ দিনের জন্য, আবার কোনো ক্যামেরার ভিডিও এক মাস সেইভ থাকে। তাই সব পাওয়া যাবে না। বাদীকে হতাশ হতে না করবেন। দরকার পড়লে তাকে আমরা ডাকব। উনি আমাদের কাছে এর আগে একবার আসছিলেন, চাইলে আবার আসতে পারেন।”
এর আগে ডিবি পুলিশ আলোচিত এ মামলার তদন্ত করছিল। গত ১৬ এপ্রিল তাদের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মামলার বাদী ও ফারদিনের বাবা নুর উদ্দিন রানা নারাজি দেওয়ার আবেদন করেন। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত।
এরও আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ফারদিনের বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরার অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন শিকদার; আদালতের অধিকতর তদন্তের নির্দেশনার পর সিআইডির পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন এর তদন্তভার পান।
এ মামলায় ফারদিনের বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বুশরাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরই বুশরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ; পরে ৮ জানুয়ারি জামিন পান তিনি।
আরও পড়ুন
