ইভিএম প্রকল্প: কারিগরি কমিটির সম্মতি নিল ইসি

কমিটির সবার সইসহ তাদের পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা কমিশনে রোববার পাঠানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Nov 2022, 07:25 PM
Updated : 10 Nov 2022, 07:25 PM

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পে কারিগরি কমিটির সম্মতির পর তা এখন পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে এক সভায় সংশ্লিষ্টদের সই নিয়ে প্রকল্প প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা গত মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, কারিগরি কমিটির সবার সই করা পর্যবেক্ষণ রোববার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে কাজ চলছে।

‘নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি গত অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল।

কারিগরি কমিটির মতামত ছাড়াই প্রকল্পটি পাঠানো হয়েছিল। যে কারণে পরিকল্পনা কমিশন ওই কমিটির মতামতসহ কিছু ‘পর্যবেক্ষণ’ দিয়ে প্রকল্পটি ইসিতে ফেরত পাঠায়।

এর দুদিন পর বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের সই নিল ইসি।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করার লক্ষ্যে প্রায় দুই লাখ ইভিএম কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের লক্ষ্যে এ প্রকল্প নিচ্ছে ইসি।

অতিরিক্ত সচিব অশোক সাংবাদিকদের বলেন, “দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করতে গেলে ইসির কাছে এখন যে পরিমাণ রয়েছে, তার বাইরে আরও ইভিএম কিনতে হবে। টেকনিক্যাল কমিটি মোটা দাগে বলেছে- আগামী নির্বাচন করতে গেলে বেশ কিছু ইভিএম কেনা লাগবে।

“প্লানিং কমিশন এ নিয়ে রিকোয়ারমেন্ট ছিল। এখন কমিশনের মাধ্যমে আমরা প্ল্যানিং কমিশনে পাঠিয়ে দেব প্রকল্পটি। তারপরে পরবর্তী কার্যক্রম হবে।”

জানতে চাইলে ইভিএম কারিগরি কমিটির সদস্য বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রকল্পে ইভিএমের ‘ফিচার’ তুলে ধরা হয়েছে। আগে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি, বৃহস্পতিবার সবাই এ নিয়ে স্বাক্ষরও দিয়েছে।

“আগের ফিচারগুলো যেমন ছিল এবারও ইভিএমে তাই রাখা যেতে পারে। কারিগরি কমিটির সবাই স্বাক্ষর দিয়েছে।”

ইভিএম প্রকল্প পরিচালক কর্নেল রাকিবুল হাসান বলেন, “প্ল্যানিং কমিশন কিছু অবজারভেশনের মধ্যে অন্যতম ছিল টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টটা সাপোর্টেড কি না।

“যেহেতু প্রকল্পের সামনে সময় কম আছে। তাই বর্তমান ইভিএমকেই আমরা রেপ্লিকেট করছি। সেজন্য টেকনিক্যাল কমিটির মতামত জরুরি। আমরা যে টেকনিক্যাল স্পেসিফেকশন দিয়েছি সেটা, সেই কাজটা আজকে করলাম। এখন গ্রিনবুকে এন্ট্রি হয়েছে।”

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পটি এডিপিভুক্ত হয়ে গেছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। তারা আবার যাচাই-বাছাই করে দেখবে।

ইভিএমে ভোট করতে কমিশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রকল্পটি জানুয়ারির মধ্যে অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

Also Read: ইভিএমের জন্য ইসির ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

Also Read: এবার প্রতি ইভিএম কিনতে খরচ বাড়ছে লাখ টাকা

Also Read: ইভিএম প্রকল্প: পর্যবেক্ষণ দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন

Also Read: জানুয়ারিতে পাস না হলে আটকে যাবে দেড়শ আসনে ইভিএমের ভোট: আলমগীর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক