Published : 20 Nov 2025, 11:01 AM
ভোট দিয়ে ঘোষণাপত্রে যথাযথ স্বাক্ষর না থাকলে পোস্টাল ব্যালাটের ভোট ‘বাতিল করবে’ রিটার্নিং অফিসার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের (আইটি সাপোর্টেড) মাধ্যমে ভোটদানের জন্য নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
বুধবার এ লক্ষ্যে পোস্টাল ভোটিং নিয়ে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
পরিপত্রে বলা হয়, “রিটার্নিং অফিসার গণনার জন্য প্রাপ্ত খাম খুলে প্রথমেই ঘোষণাপত্রটি যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত কি না তা পরীক্ষা করে দেখবেন। যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত না থাকলে, এর সাথে প্রাপ্ত ব্যালট পেপারের খাম না খুলেই ঘোষণাপত্রটি প্রত্যয়ণ করে বিনষ্ট হিসেবে বাতিল মর্মে তা ব্যালট সম্বলিত খামসহ একত্র করে সংরক্ষণ করবেন।”
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে নিবন্ধন থেকে ভোটের ফলাফল চূড়ান্ত পর্যন্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিতে ইচ্ছুক বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটাররা অনলাইনে আবেদন করে ভোট দিতে নিবন্ধন করতে পারবেন।
বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারী ভোটারের তথ্য যাচাই করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে তাদের বিদেশের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে।
রিটার্নিং অফিসার প্রতীক বরাদ্দ হলে ভোটাররা অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।
এরপর, প্রদত্ত ভোটের ব্যালট ফিরতি খামে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বরাবর ডাকযোগে পাঠাবেন। পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটার ব্যালট পেপার পাঠানোর অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমাও ঘোষণা করেছে ইসি।
ভোটদানের নিবন্ধন পদ্ধতি:
(ক) নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী ভোটার যে দেশ থেকে ভোট দিতে ইচ্ছুক কেবলমাত্র সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
(খ) পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তি এবং ভোট প্রদানের জন্য গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকেমোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।
(গ) ব্যবহারকারী বাংলা/ইংরেজি যে কোন একটি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন।
(ঘ) আবেদনকারী নিয়মানুযায়ী অনুযায়ী নিবন্ধন করবেন। ওটিপি, Liveliness ও এনআইডি যাচাইপূর্বক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
(৩) বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে নির্ভুল ঠিকানা দেওয়া আবশ্যক।
ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ ও পোস্টাল প্যাকেজ কি থাকছে
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধিত সব ভোটারের কাছে পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার পাঠাবে ইসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের দেওয়া ঠিকানায় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো পোস্টাল ব্যালটসহ খাম পাবেন।
খাম পেয়ে পরপরই ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে লগইন করে খামের উপর দেওয়া ‘কিউআর’ কোডটি স্ক্যান করবেন।
এতে তিনি যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে।
ভোটাররা নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত বহির্গামী খামে একটি পোস্টাল ব্যালট সম্বলিত খামের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পেপার, একপাশে ভোট প্রদানের নির্দেশাবলী ও অপর পাশে একটি ঘোষণাপত্র সম্বলিত একটি পৃথক কাগজ এবং একটি ফেরত খাম পাবেন; যেখানে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা মুদ্রিত থাকবে।
ভোট দিয়ে ব্যালট পেপার ডাকযোগে যাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে
(ক) পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় পাঠানো ব্যালট পেপারে সব কটি প্রতীক মুদ্রিত থাকবে যার প্রতিটি প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর রয়েছে।
ভোট দেওয়া আগে ভোটাররা নির্দেশনাপত্র পড়ে ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে ব্যালট পেপারের ক্রমিক নং, ভোটারের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে প্রদত্ত স্থানে স্বাক্ষর করবেন।
নিরক্ষর/অক্ষম ব্যক্তি অন্য একজন বৈধ ভোটারের সাহায্যে এর সংশ্লিষ্ট অংশ পুরণ করে সত্যয়ন করে স্বাক্ষর করবেন।
এই ঘোষণাপত্র/সত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া ব্যালট পেপারটি বৈধ হিসাবে গণ্য হবে না।
(খ) প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হলে অ্যাপের মাধ্যমে অথবা নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে ভোটারা অবগত হবেন।
ভোট দেওয়া জন্য ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’মোবাইল অ্যাপে লগইন করে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পাবেন এবং নির্দেশিকাতে দেওয়া পদ্ধতিতে ব্যালট পেপারে মুদ্রিত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘরে টিক (V) চিহ্ন কিংবা ক্রস (x) চিহ্ন দেবেন।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে ভোটদান পদ্ধতির ভিডিও টিউটোরিয়াল বা ডিজিটাল কন্টেন্ট থাকবে।
(গ) পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোটার ভোট চিহ্নিত করবার পর শুধুমাত্র ব্যালট পেপারটি ছোট খামে রেখে খামটি বন্ধ করবেন, অতঃপর উক্ত ব্যালট পেপার সম্বলিত খামটি এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণপত্রটি রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা মুদ্রিত খামে প্রবেশ ঢুকিয়ে তা বন্ধ করবেন। তারপর বন্ধখামটি ডাকযোগে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা নেবেন।
উভয় খামই ‘সেলফ এডহেসিভ’যুক্ত থাকবে ফলে ‘সেলফ এডহেসিভ’ অংশের উপরিভাগের টেপটি খুলে নিলেই খাম বন্ধ হবে।
এছাড়া ওই খামটি পাঠানোর জন্য কোনো ডাক মাশুল প্রেরককে দিতে করতে হবে না। এই মাশুল পরিশোধ করবে সরকার।
পোস্টাল ভোট গণনা শুরু করার আগ পর্যন্ত প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট পেপারগুলোই কেবল গণনার আওতায় আসবে।
(ঘ) নির্বাচন কমিশন থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পোস্টাল ব্যালট ভোটারের কাছে প্রেরণের পর হতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত আসা পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়াটির বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যালটের অবস্থান মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
ভোটারগণ স্ব স্ব মোবাইল থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজ ব্যালটের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
রিটার্নিং অফিসারের ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণ
রিটার্নিং অফিসার ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খামসমূহ প্রাপ্তির পর তার উপর প্রদত্ত ‘কিউআর’ কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে প্রাপ্ত রেকর্ড রাখবেন, যা পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তি তালিকা হিসাবে সফটওয়্যার হতে জেনারেট হবে।
সফটওয়ার থেকে জেনারেট করা এই ফরমে রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করবেন।
যথাযথ স্বাক্ষরবিহীন ঘোষণাপত্র/ঘোষণাপত্রবিহীন ব্যালটের খাম বাতিল/অবৈধ বলে সংরক্ষণ করবে রিটার্নিং অফিসার।
আর যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র সম্বলিত ব্যালটের খামগুলো গণনার জন্য আলাদা বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। যা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার নির্ধারিত বাক্সে সংরক্ষণ করবেন।
পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি গণনা কক্ষ প্রস্তুত করা হবে।
পোস্টাল ভোট গণনার সময় প্রার্থী/নির্বাচনি এজেন্ট/প্রার্থীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকরা অন্যান্য কেন্দ্রের মত একই নীতিমালা অনুসরণে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ভোট প্রদানের নিমিত্তে ডেভেলপকৃত সফটওয়্যারে লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে/জানতে পারবেন।
যে পদ্ধতিতে প্রাপ্ত ব্যালট পেপারগুলো গণনা হবে
(ক) রিটার্নিং অফিসার ব্যালট পেপার সম্বলিত খামগুলো গণনার জন্য বাক্স খুলবেন এবং একের পর এক ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম খুলে ব্যালট পেপার বের করবেন। বৈধ ব্যালট পেপারসমূহ প্রার্থীভিত্তিক আলাদা করবেন এবং তা গণনা করবেন।
(খ) যে সমস্ত পোস্টাল ব্যালটে কোনো প্রার্থীর অনুকুলে ভোট প্রদান করা হয়েছে তা সঠিক বোঝা না যায় সেগুলো অবৈধ/বাতিল ব্যালট হিসেবে আলাদা করবেন।
(গ) প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণ ভোটকেন্দ্রের মত লিপিবন্ধ করে এর কপি প্রকাশ করবেন।
(ঘ) পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা অতিক্রান্ত হবার পর যদি কোনো পোস্টাল ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছায় সেইক্ষেত্রে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটসমূহ রিটার্নিং অফিসার/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখসহ স্বাক্ষরপূর্বক সংরক্ষণ করবেন এবং এ সংখ্যা প্রকাশ করবেন।
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা শেষ হলে অন্যান্য সাধারণ কেন্দ্রের মতো পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল ঘোষণা করে সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ঘোষণা ও অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলের সাথে একত্রিকরণ করে চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব একীভূত না করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন, কোন দেশে কখন?