Published : 24 Aug 2025, 07:13 PM
এ এম এম নাসির উদ্দিনের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ‘বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
নির্বাচন ভবনকে ‘পার্টি অফিস’ অভিহিত করে তিনি বলেছেন, ইসি একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা না পেলে ইসি পুনর্গঠনের দাবি তোলা হবে।
রোববার বিকালে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এর আগে নির্বাচন ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের শুনানিতে হাতাহাতিতে জড়ায় দুই পক্ষ।
শুনানিতে বিএনপির রুমিন ফারহানা ইসির খসড়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর খসড়ার বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ। এর মধ্যে সেখানে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষে।
এ ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ইসির সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, “আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে যাব এবং কমিশনের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করব।”
তিনি বলেন, “অতীত কাঠামোতে বর্তমান ইসিতে যারা যারা রয়েছেন, তারা ‘পিক অ্যান্ড চুজের’ ভিত্তিতে নিয়োজিত হয়েছে, নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছে। আমরা তাদের ভূমিকাকে সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ বলেছি।
“আজকে ঘটনায় পুরো বাংলাদেশ যেটি সাক্ষী হয়েছে। এটি মূলত আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে এবং সেখানে এই কমিশনের ভূমিকা কী হবে; বিএনপি কী ভূমিকা রাখবে; পুলিশ কী করবে, সেটি আজ প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।”
হাসনাত বলেন, “নির্বাচন অফিসে যদি এ অবস্থা হয়, সারা দেশে এই বিএনপির যারা রয়েছে, যারা এসব গুন্ডাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, তারা কীভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে, আজ সেটির টেস্ট ম্যাচ হয়ে গেছে।”
বিএনপির রুমিন ফারহানকে বিগত সরকারের ‘সুবিধাভোগী’ অভিহিত করে এনসিপির এ নেতা বলেন, “বিগত ১৫ বছর নাকি উনি অনেক ভালো ছিলেন। উনি অবশ্যই ভালো থাকবেন। কারণ উনি যত ধরনের সুবিধা রয়েছে, সব ধরনের সুবিধা উনি নিয়েছেন।”
ইসি ‘পার্টি অফিস’, ‘দলকানা’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “এই নির্বাচন কমিশন কতিপয় পার্টির, এটা পার্টি অফিস হয়ে গেছে। আমরা বারবার বলে এসেছি, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে আমরা যেতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আবার গুন্ডাতন্ত্রের দিকে যেতে চায় না। দেশের মানুষ আবার ১/১১ মঞ্চস্থের জন্য অপেক্ষা করছে না।”
তিনি বলেন, “এ নির্বাচন কমিশনকে বস্তুনিষ্ঠ পেশাদারত্বের ভূমিকায় আমরা দেখতে চাই। নির্বাচন কমিশন যেভাবে দলকানা, একটি দলের প্রতি, একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেভাবে নির্লজ্জের মত কাজ করছে, সেটি আমাদের যে নির্বাচনমুখী আমরা হচ্ছি, সেটির অন্তরায় বলে আমরা মনে করছি।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির এ নেতা বলেন, “এই কমিশনের প্রতি আমাদের যে আস্থা ছিল, তা ক্রমশ ক্ষীয়মাণ। নির্বাচন কমিশনের রিমোট কন্ট্রোল কোথায় রয়েছে, সেটা আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত।”
কমিশনারদের উদ্দেশ করে হাসনাত বলেন, “এই কমিশন পরিচালনা করতে পারবেন না আপনারা। অন্যরা কেউ পরিচালিত করে আপনাদেরক। আপনারা মানুষের সামনে সেটি প্রকাশ করুন। নয়ত নিকট অতীতে আমরা নুরুল হুদা কমিশনকে দেখেছি; তার পরিণতি আমরা দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ আবার কোন মঞ্চস্থ নির্বাচনের দিকে যেতে চায় না।”
তিনি বলেন, “আমরা গুন্ডার রাজনীতি ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছি। রুমিন ফারহানারা যদি সেটি আবার বাংলাদেশে ফেরাতে চায়, তাহলে হাসিনার প্রতি তাদের যে আন্তরিকতা, হাসিনা যেখানে আছে, তাদেরকেও সেখানে চলে যেতে হবে।”
যা বলছেন আতাউল্লাহ
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনায় এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ বলেন, “শুনানিস্থলে এসে দেখি, বিএনপির রুমিন ফারহানাসহ লোকজন তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে। একটা পর্যায়ে আমি যখন শুনানিতে দাঁড়াই, রুমিন ফারহানা তেড়ে গিয়ে আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমাকে কথা বলতে দেয়নি।
“রুমিনের যেসব গুন্ডাপান্ডা ছিল, তারা আমাকে পায়ের নিচে ফেলে পিষ্ট করে এবং নির্মমভাবে মারধর করে।”
এনসিপির এ নেতা বলেন, “আমার সঙ্গে উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম এবং যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক সুমন মোস্তফাও মারধরের শিকার হয়েছেন।
“আমি এ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। যদি বিচার করতে ব্যর্থ হয়, আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ দাবি করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এনসিপি নেতা সাইফুল্লাহ খালেদ, আরিফুর রহমান তুহিন, রফিকুল ইসলাম কনকসহ যুব শক্তির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রুমিন যা বলেছেন
দুপুরে শুনানি থেকে বেরিয়ে নির্বাচন ভবনে রুমিন ফারহানা বলেন, “মুশকিল হচ্ছে, উনি (আতাউল্লাহ) যেহেতু খুব পরিচিত কোনো মুখ নন, উনি এনসিপি থেকে এসেছেন, না জামায়াত থেকে গেছেন, আমি জানি না।
“তবে একজন প্রথমে আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন; পাঞ্জাবি পরা একজন। তারপর আমার লোকজন তো বসে থাকবে না। আমি তো একজন নারী এবং পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করেছে, আমার লোকজন জবাব দিয়েছে, সিম্পল।”
আরও পড়ুন