Published : 24 Aug 2025, 02:48 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে শুনানির প্রথম দিনে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই পক্ষ।
রোববার দুপুর পৌনে ১টায় রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩ আসনের আপত্তি-পরামর্শের শুনানির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ওই দুই আসনের খসড়া প্রকাশের পর পক্ষে-বিপক্ষে আবেদন জমা পড়েছিল। ইসির শুনানিতে অংশ নিয়ে বিএনপির রুমিন ফারহানা ইসির প্রকাশিত খসড়ার পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর খসড়ার বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ। তিনি বলেন, বিজয়নগর উপজেলা থেকে তিনটি ইউনিয়ন (বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে। তারা উপজেলাকে অখন্ড দেখতে চায়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, একপর্যায়ে দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন, জড়িয়ে পড়েন হাতাহাতিতে। আতাউল্লাহর সঙ্গে স্থানীয় বিএনপিরও কয়েকজন ছিলেন। হট্টোগোলের একপর্যায়ে ইসি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের শুনানি শেষ করেন এবং তাদের শুনানি কক্ষ ত্যাগ করার অনুরোধ জানান।
এ দুই আসন দিয়েই চারদিনের সীমানা সংক্রান্ত শুনানি শুরু করেছে ইসি। শুনানিকালে সাংবাদিকদের থাকতে বলা হলেও ক্যামেরা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
২০২৪ সালে এ আসনে ছিল সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা। প্রস্তাবিত সীমানায় এ দুই উপজেলার সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলার বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর ইউনিয়নকে যুক্ত করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩
এ আসনে ২০২৪ সালে ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলা। এবার করা হয়েছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুর, চম্পানগর, পত্তন, দক্ষিণ সিংগারবিল, বিষ্ণপুর, চর ইসলামপুর ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন।
ঘটনার সময় নির্বাচন ভবনের বাইরেও হট্টগোল হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারী একটি দলকে গেইটের সামনে থেকে সরিয়ে দেন। সেখানে জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‘নির্বাচনে কী হবে, অনুমেয়’
শুনানি থেকে বেরিয়ে বেলা ২টার দিকে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এখানে একটি মারামারি হয়েছে। আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, আমি মনে করেছি- আমার কেইস আমি নিজেই প্রেজেন্ট করব। সো আমার কেইস আমি প্রেজেন্ট করেছি…
“ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এর যিনি প্রার্থী, তিনি তার সদলবলে ২০/২৫ জন মিলে গুন্ডা-পান্ডার মতন, তাদের সেখানে আচার আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক, অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি মনে করি এটা কমিশনের যে সম্পত্তি, যে গাম্ভীর্য এবং যে সম্মান; সেইটার সঙ্গে এটা যায় না।”
গত দেড় দশকে যা ঘটেনি, রোববার তাই ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা।
তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “১৫ বছরে যা হয়নি তা আজ হয়েছে। যে বিএনপির নেতা কর্মীদের জন্য ১৫ বছর লড়াই করেছি, তারাই আমার গায়ে হাত তুলল। নির্বাচনের আগে সীমানা নিয়ে নিজের দলে এমন পরিস্থিতি হলে নিবার্চনে কী হবে, অনুমেয়। আমাকে মারা হয়েছে, জবাবে আমার লোক তো বসে থাকবে না৷”

এদিকে শুনানিস্থল থেকে বেরিয়ে আতাউল্লাহ দাবি করেন, ‘হামলা’য় তিনিসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, “মুশকিল হচ্ছে উনি (আতাউল্লাহ) যেহেতু খুব পরিচিত কোনো মুখ নন; উনি এনসিপি থেকে এসেছেন, না জামায়াত থেকে গেছেন আমি জানি না।
“তবে উনি প্রথম- একজন আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন, পাঞ্জাবি পরা একজন ধাক্কা দিয়েছে। তারপরে আমার লোক তো বসে থাকবে না। আমি তো একজন মহিলা এবং পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করেছে, আমার লোকজন জবাব দিয়েছে, সিম্পল।”
পরে সংবাদ সম্মেলন করে আতাউল্লাহ বলেন, “শুনানিস্থলে এসে দেখি, বিএনপির রুমিন ফারহানাসহ লোকজন তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। একটা পর্যায়ে যখন আমার সময় আসে, আমি শুনানিতে দাঁড়াই। দাঁড়ানোর পরে রুমিন ফারহানা তেড়ে গিয়ে আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেয় এবং আমাকে কথা বলতে দেয়নি।”
এসময় রুমিন ফারহানার লোকজন লাথি-ধাক্কা দেয় দাবি করে তিনি বলেন,“(রুমিন) তার যে গুন্ডাপান্ডা ছিল, তারা আমাকে পায়ের নিচে ফেলে আমাকে পিষ্ট করে এবং নির্মমভাবে মারধর করে।”