Published : 11 Jun 2026, 08:06 PM
ট্রিগারে আঙুল রাখার অনুমতি পেতে বা আগে নেওয়া অনুমতি বহাল রাখতে এখন থেকে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে আগ্নেয়াস্ত্র আবেদনকারীকে।
প্রতি বছর পিস্তল ও রিভলবারের জন্য এক লাখ টাকা আর বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম কর দিতে হবে সরকারকে।
বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন এই করহারের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আয়কর আইনে নতুন একটি ধারা সংযুক্তির প্রস্তাব করে অর্থবিলে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা নিবন্ধন বা লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা নিবন্ধন বা লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করার ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকের নিকট হতে এ-চালানের মাধ্যমে অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করবেন।
এক্ষেত্রে বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং পিস্তল ও রিভলবারের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা অগ্রিম করের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা সংশোধন করে গত বছরের ১০ জুলাই নতুন নীতিমালা জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেলের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে আবেদনের আগের তিন করবছরে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা এবং শটগানের ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা আয়কর দেওয়ার বিধান চালু করা হয়।
এছাড়া পিস্তল, রিভলভারের ক্ষেত্রে লাইসেন্স আবেদন ফি ৬০ হাজার টাকা এবং বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের ক্ষেত্রে এই ফি ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে। পিস্তল, রিভলভারের নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা এবং বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের ক্ষেত্রে এই ফি ১০ হাজার টাকা ঠিক করার কথা নীতিমালায় বলা আছে।
সারাদেশে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকার তথ্য গত ফেব্রুয়ারিতে দিয়েছিল পুলিশ দপ্তর। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ছিল ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি।
অস্ত্রের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারে চড়াকেও ব্যয়বহুল করে তোলার প্রস্তাব অর্থবিলে করেছেন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক আমির খসরু। এই প্রস্তাব পাস হলে হেলিকপ্টার বা চপার নিবন্ধন বা নবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর গুনতে হবে ১০ লাখ টাকা করে।
আয়কর আইনে নতুন একটি ধারা সংযুক্তি করে উপ-ধারা (১) এ প্রস্তাব তিনি করেছেন, ওই “পরিশোধিত অগ্রিম করের এ-চালান বেসামরিক আকাশযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আবেদনের সহিত দাখিল করা না হইলে বেসামরিক আকাশযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ বেসামরিক আকাশযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করিবেন না।”
তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান, কোনো বিদেশি কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ, বাংলাদেশের কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন ও এর সঙ্গে যুক্ত দপ্তর বা দপ্তরসমূহ এবং রিটার্ন দাখিল হতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতাদের এই অগ্রিম আয়কর থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।