Published : 07 Jul 2026, 04:12 PM
স্ত্রীর ‘টাকা চুরি করে মাদক সেবনের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বংশালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির একপর্যায়ে একটি লোহার রড ঢুকে যায় স্বামী সুমন মিয়ার বুকে।
এরপর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক ৪০ বছর বয়সী সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নাজিমউদ্দীন রোডের জমিদার গলির আনারস মসজিদের পাশের চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারি ছিলেন। তার বাড়ি
হবিগঞ্জের কমলগঞ্জে। সুমনের বাবার নাম মো. নবী মিয়া।
বংশাল থানার ওসি একেএম মাহফুজুল হক বলেন, “আমরা একটি হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আছেন, আমিও যাচ্ছি।”
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন সুমনের দুই স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়।
“একপর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর হাতে থাকা একটি ধারালো কিছু তার বুকে ঢুকে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার পর দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তার সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জমিদার গলির ওই বাসায় তিনি মেয়েকে নিয়ে থাকেন। সোমবার রাতে প্রথম স্ত্রী ডলির বাসা থেকে সুমন তার বাসায় আসেন। পরে বাসা থেকে দেড় হাজার টাকা হারিয়ে যায়।
সুমনকে বাথরুমে মাদক সেবন করতেও দেখেন বলেও দাবি করেন নাসিমা আক্তার। এসব বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
নাসিমার ভাষ্য, “ঝগড়ার এক পর্যায়ে সুমন মারধর করে, পেটে কামড় দেয়। হাতাহাতির সময় একটি লোহার ধারালো রড নিয়ে টানাহেঁচড়ার মধ্যে সেইটা সুমনের বুকে ঢুকে যায়।”
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের বুকের বাম পাশে একটি জখম রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করছে বংশাল থানা পুলিশ।