Published : 10 Nov 2025, 09:44 PM
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষকের পদ বাতিল করে জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। আদালতে শুনানিও করেন তিনি।
শুক্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ২৮ অগাস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাইমারি স্কুলে সংগীত শিক্ষক ও শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে ২ নভেম্বর এই নিয়োগের প্রবিধান বাতিল করে একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
“সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছি আমি। শুনানি শেষে কোর্ট এই সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে রুল জারি করেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
রিটে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে বলে এ আইনজীবী জানান।
গত ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি সৃষ্টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করে।
প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিলের দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারাও সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির কঠোর সমালোচনা করেন।
এই প্রেক্ষাপটে রোববার সংগীত শিক্ষক ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বাতিল করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বিবৃতি দিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের একটি ব্যাখ্যা দেয়।
সেখানে বলা হয়, “দেশে প্রায় আড়াই হাজার ক্লাস্টারে সমসংখ্যক সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের প্রাথমিক পরিকল্পনা সচিব কমিটির সুপারিশে বাতিল করা হয়েছে, কারণ সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ফলে কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে না এবং এতে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।
“বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে এই নিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া পরে অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে সব স্কুলে এ রকম নতুন বিষয়ের শিক্ষকের পদ সৃষ্টি এবং সেসব পদে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।”
প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহাল দাবি
সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ বাতিল রাজনৈতিক চাপে: আসক
প্রাথমিকে শারীরিক শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন
প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হেফাজতের হুঁশিয়ারি
প্রাথমিকে সংগীত ও শরীর চর্চার শিক্ষক 'অপরিহার্য': ঢাবি নৃত্যকলা বিভাগ