Published : 05 Nov 2025, 10:23 PM
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তে ‘সরকারের উদার দৃষ্টিভঙ্গির অভাব’ দেখছে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি ‘অনভিপ্রেত ও পশ্চাদমুখী’ পদক্ষেপ।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক বলেছে, “আপাত দৃষ্টিতে সরকারের এই ব্যাখ্যা যুক্তিসংগত মনে হলেও বাস্তব প্রেক্ষাপটে এটি পরিকল্পনার ঘাটতির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক চাপের ফলাফল।”
গত ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি সৃষ্টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করে।
প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিলের দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারাও সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির কঠোর সমালোচনা করেন।
এই প্রেক্ষাপটে রোববার সংগীত শিক্ষক ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বাতিল করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বিবৃতি দিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের একটি ব্যাখ্যা দেয়।
সেখানে বলা হয়, “দেশে প্রায় আড়াই হাজার ক্লাস্টারে সমসংখ্যক সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের প্রাথমিক পরিকল্পনা সচিব কমিটির সুপারিশে বাতিল করা হয়েছে, কারণ সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ফলে কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে না এবং এতে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।
“বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে এই নিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া পরে অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে সব স্কুলে এ রকম নতুন বিষয়ের শিক্ষকের পদ সৃষ্টি এবং সেসব পদে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ”
এ বিষয়ে আসকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পরিকল্পনার ত্রুটি থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত ছিল যুক্তিসংগত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে; সেটি বাতিল করে নয়। এখানে উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ প্রকাশের পর থেকেই ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী প্রকাশ্যে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা করে এবং তার পরিবর্তে ‘ধর্ম শিক্ষক’ নিয়োগের দাবি তোলে। পাশাপাশি গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আলটিমেটাম দেয়।
“আসক সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে,এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। শিক্ষা বিষয়ক যে কোনো নীতি কোনোভাবেই ধর্মীয় বা রাজনৈতিক চাপের প্রভাবে নয়, বরং যুক্তি, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রণীত হওয়া উচিত।”