Published : 20 Sep 2026, 10:52 AM
মানবজীবনের সংবেদনশীল ও রূপান্তরকালীন পর্যায় হল মধ্যবয়স বা ‘মিডলাইফ’।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে মনে যে তীব্র একঘেয়েমি, বিষণ্ণতা এবং ক্যারিয়ার বা পরিচয় নিয়ে শূন্যতা তৈরি হয়— তাকে ‘মিডলাইফ ক্রাইসিস’ বা ‘মধ্যবয়সের মানসিক সংকট’ বলা হয়।
সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করেন, এই সংকট কেবলই এক ধরনের পারিবারিক ভাঙন, ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বা বৈবাহিক অশান্তির দিকে ঠেলে দেয়। তবে আধুনিক সমাজ-মনস্তত্ত্বের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ‘মিডলাইফ ক্রাইসিস’ আসলে কোনো ধ্বংসাত্মক রোগ নয়; বরং এটি হল পুরানো ও জীর্ণ সামাজিক মুখোশ বা পরিচয় ঝরিয়ে ফেলে নতুন করে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ।
স্বাস্থ্য ও মানসিক বিষয়ক পোর্টাল ‘সেলফ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, কানাডীয় লেখক, পডকাস্ট হোস্ট এবং কর্পোরেট মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ক্যাটালিনা মারগুলিস নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, “সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার বা ‘হ্যাভিং ইট অল’ প্রবৃত্তি বর্জন করাই মধ্যবয়সের আনন্দ ফিরে পাওয়ার চাবিকাঠি।”
মধ্যবয়সের এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং তা কাটিয়ে ওঠার ৩টি নির্দেশনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।
‘হ্যাভিং ইট অল’ বা সর্বগ্রাসী সার্থকতা বাতিক বর্জন
ক্যাটালিনা মারগুলিস ব্যাখ্যা করেন, “আধুনিক যুগে বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েরা একাধারে সফল ক্যারিয়ার, সুখী দাম্পত্য এবং আদর্শ অভিভাবক হওয়ার এক অলীক ও সর্বগ্রাসী বাতিকে ভোগেন। একই সঙ্গে সব ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়ার এই তীব্র চেষ্টা মস্তিস্কের স্নায়ুতন্ত্রকে অনবরত ‘হাইপার-অ্যাক্টিভ’ রাখে, ফলে ভেতরে তীব্র একাকিত্ব, অবসাদ ও রাগ জন্ম নেয়।”
মধ্যবয়সের শান্তি ফিরে পাওয়ার প্রথম নিয়ম হল— সবকিছু নিখুঁত রাখার অবাস্তব চাহিদা বর্জন করা এবং নিজের ভুলগুলোকে সাধারণভাবে ক্ষমা করতে শেখা।
গলদা চিংড়ির খোলস ঝরানোর মতো কৌশল
মেরিন বায়োলজি বা সামুদ্রিক বিজ্ঞানের একটি পদ্ধতি মধ্যবয়সের রূপান্তরের সঙ্গে বেশ মিলে যায়।
লবস্টার বা গলদা চিংড়ি যখন আকারে বড় হতে চায়, তখন তার শরীরের বাইরের শক্ত খোলস বা কঙ্কালটিকে প্রাকৃতিকভাবেই পুরোপুরি ঝরিয়ে ফেলতে হয়। মানুষের মনস্তত্ত্বও ঠিক একই নিয়মে কাজ করে।
জীবনের একটি অধ্যায় থেকে নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করতে হলে, পুরানো কর্পোরেট পরিচয়, মানুষের মেকি ‘জাজমেন্ট’ বা বিচার করার প্রবণতা এবং মেয়াদ শেষ হওয়া দায়িত্বগুলোর খোলস সচেতনভাবে ঝরিয়ে ফেলাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরম প্রতিষেধক হতে পারে।
ব্যক্তিগত বিকাশ
মধ্যবয়সের তীব্র অবসাদ দূর করতে নিজের অবচেতন স্নায়ুকে নতুন কোনো সৃজনশীল কাজের দিকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য।
জীবনের না-পাওয়া বা জমানো ক্ষোভগুলোকে ডায়েরির পাতায় লেখা করা, বই লেখা বা কোনো ‘পাবলিক স্পিকিং কমিউনিটি’তে যুক্ত হওয়া মস্তিস্কে নতুন উদ্দীপনা দেয়।
এই ব্যক্তিগত রূপান্তরের ব্যায়ামগুলো আত্মসম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে মনকে শান্ত করে।
এই বিশেষজ্ঞের মন্তব্য
ক্যাটালিনা মারগুলিস বলেন, মানুষের জীবনে প্রতি ৫ থেকে ৭ বছর পর পর এক একটি নতুন চিন্তার সাইকেল বা চক্র আবর্তিত হয়। তাই ৪০-এর কোঠায় এসে জীবনকে ব্যর্থ মনে করার কোনো কারণ নেই।”
যদি দেখা যায় এই রূপান্তরের সময় অতিরিক্ত অনিদ্রা, অবসাদ বা দীর্ঘক্লান্তি স্বাভাবিক ছন্দ কেড়ে নিচ্ছে, তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে একজন নিবন্ধিত মনোবিদের পেশাদার পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
পুরানো খবর:
মনে কেন জাগে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ভয়?পুরানো খবর:
মেঘলা দিনে যে কারণে মনের ভেতরে জমে অবসাদের মেঘপুরানো খবর:
মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে ‘মাল্টিটাস্কিং