১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুদকের আবেদনে হানিফ ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ

হানিফের বিরুদ্ধে ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 May 2026, 11:54 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার স্ত্রী ফোজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। 

দুদকের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া তাদের আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, “হানিফ পাবলিক সার্ভেন্ট ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ২৭ কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার ৩১ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখেন। তার বিরুদ্ধে ১৮টি ব্যাংক হিসাবে  ৪৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৭ টাকা জমা এবং ৪৩৩ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৩ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করার অভিযোগ আছে।

“এছাড়া মানিলন্ডারিংয়ে সম্পৃক্ত অপরাধ দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ও সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে।”

ফোজিয়া আলমের আবেদনে বলা হয়, “তারা একে অন্যের সহায়তায় পারস্পারিক যোগসাজশে ফৌজিয়া আলম সঙ্গতিবিহীন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখেন। ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ১৭ কোটি ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৬৯ টাকা জমা এবং ১৬ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ২৪০ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৩৩ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৬০৯ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করে। 

“তিনি ও তার স্বামী মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ ও সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে।”

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের আয়কর নথিসমূহ (ভিত্তি বছর থেকে সর্বশেষ দাখিল করা আয়কর নথি) জব্দ করার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক।