ঘোর অনিশ্চয়তায় ইভিএম

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো বা অর্থ সংস্থান না হলে অকেজো ইভিএম পুড়িয়ে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 05:06 PM
Updated : 1 April 2024, 05:06 PM

অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রার ১৪ বছরের মাথায় ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। সরকার প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়ালে জুনের পরেই নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা ইভিএমগুলো ধ্বংস করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

অর্থসঙ্কটের মধ্যে নতুন করে ইভিএম না কেনায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তির ব্যবহার হয়নি। তবে স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনের উপ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন।

হাতে থাকা ইভিএমগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, “ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী জুনে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষের পর আর্থিক যোগান না থাকলে ইভিএমগুলো ডিসপোজালের ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন আমরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে চিঠি দেব।”

সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত পেতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ চিঠি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

“অকেজো ইভিএমের জন্য প্রতি বছর ভাড়া গুনতে হবে। সেক্ষেত্রে শুধু টাকা খরচই হবে, ইভিএমে কোনো কাজে আসবে না। এক্ষেত্রে ইভিএমগুলোর নিষ্পত্তি করার কোনো বিকল্প নেই।”

২০১০ সালে ইভিএম চালুর পর স্থানীয় নির্বাচনেই তা ব্যবহার হচ্ছিল। এটিএম শামসুল হুদা কমিশন ওই ইভিএম সিটি করপোরেশনে বড় পরিসরে ব্যবহার করেছিল, কিন্তু সংসদ নির্বাচনে নিতে পারেনি।

২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসি আগের ইভিএমকে অনেকটা অকেজো অবস্থায় ফেলে গিয়েছিল। তখন সিটি নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার হোঁচট খায়।

এরপর কে এম নূরুল হুদার কমিশন নতুন করে ইভিএম নিয়ে এগোয়। ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়। আইন সংশোধন করে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ছয়টি সংসদীয় আসনে ইভিএম ব্যবহারও করা হয়।

এসব যন্ত্রের আয়ুষ্কাল ১০ বছর ধরা হলেও পাঁচ বছরের মাথায় অধিকাংশ ইভিএম অকেজো হয়ে যায়। সেগুলো মেরামত করতে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তার সংস্থান আর হয়নি।

এর মধ্যেও কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন স্থানীয় সরকারের সিংহ ভাগ নির্বাচনই হয়েছে ইভিএমে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অন্তত দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করার পরিকল্পনা ছিল ইসির।

কিন্তু কোভিড পরবর্তী সময়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে আরও দুই লাখ নতুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রস্তাবে সরকার সায় দেয়নি। ফলে দ্বাদশ সংসদে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ইসি।

·         দেড় লাখের মধ্যে ৭০ হাজার ইভিএম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে (বিএমটিএফ) সংরক্ষিত রয়েছে। বাকি ৮০ হাজার মেশিন মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহার হয়েছে।

·         রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলায় ইভিএমের একটি বড় অংশই অকেজো।

সংসদের উপ-নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের সাধারণ ও উপনির্বাচন মিলে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি নির্বাচন হয়েছে ইভিএমে।

ইভিএম সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ওয়্যারহাউস ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের ডিপিপিতে ইভিএম সংরক্ষণের বিষয়টি না থাকায় এখন ওয়্যারহাউসের ভাড়া পরিশোধ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ইভিএমের ওয়্যারহাউসের ভাড়া পরিশোধের জন্য বরাদ্দ চাওয়ার পাশাপাশি ইভিএমের বিষয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে অচল ইভিএম শনাক্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে চান তারা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো বা অর্থ সংস্থান না হলে অকেজো ইভিএম পুড়িয়ে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

পুরনো খবর 

Also Read: ইভিএম: দেড় লাখের ৩০ শতাংশের 'রক্ষণাবেক্ষণে' যাচ্ছে ইসি

Also Read: ‘সর্বোচ্চ সংখ্যক’ ইভিএম প্রস্তুত রাখার কাজ চলছে: প্রকল্প পরিচালক

Also Read: সংসদ নির্বাচনে ইভিএম থাকছে না, সব আসনে ব্যালট পেপারে ভোট

Also Read: ইভিএম প্রকল্প: পর্যবেক্ষণ দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন

Also Read: ইভিএমের নতুন প্রকল্প: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী সপ্তাহে

Also Read: ইভিএমের প্রকল্প একনেকে উঠেনি, তবে ইসি আশা ছাড়েনি

Also Read: ইভিএমের বিরোধিতার কারণ ‘মনস্তাত্ত্বিক’: ইসি