Published : 20 Jan 2026, 11:31 PM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় হত্যা ও ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এরপর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
অপর দুই বিচারক হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদার ও মঈনুল করিম।
পরে গাজী তামিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত দিনে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনেছেন এবং আসামির পক্ষের যুক্তির জবাবে প্রসিকিউশনের তরফে জবাবও উপস্থাপন করা হয়েছে।
“২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আশুলিয়া থানার সামনে সংঘটিত এই ঘটনাটি ছিল চরম নৃশংস। গুলি করে হত্যার পর মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে।”
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে দিনে সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে নিহত পাঁচজনের লাশ এবং আহত ব্যক্তিকে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
গত বছরের ২ জুলাই এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
১৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন আটজন। তারা হলেন- ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই শেখ আফজালুল হক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান ও কনস্টেবল মুকুল।
অভিযোগ গঠনের দিন আসামি শেখ আফজালুল হক নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এসআই বিশ্বজিৎ সাহাসহ এ মামলার আট আসামি পলাতক। তাদের পক্ষে দুজনকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে।
এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় গত বছরের ৭ অগাস্ট। ১৩ অগাস্ট শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের জন্য ২১ অগাস্ট দিন ঠিক করা হয়।
২১ অগাস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
আগের খবর:
আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় ১৬ জনের বিচার শুরু
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো: অভিযোগ আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল