Published : 08 Jul 2026, 05:17 PM
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমতে শুরু করবে বলে দাবি করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “শব্দ দূষণের ব্যাপারটায় একটা প্রকল্প কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। অনেকগুলা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ওখানে। এখন আমরা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছি। আমাদের নজরদারি বাড়ানো হবে।”
নদী ও বায়ু দূষণ কমাতেও সরকার কাজ করছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে পরিবেশের যতগুলো দূষণ আছে, সবগুলো বিষয়ের মাত্রা কমতে শুরু করবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইটভাটা বন্ধ করে বায়ু দূষণ কমানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, “ইট ভাটার দুটি বিকল্প আছে যদি দূষণ কমাতে চান। একটা হলো ‘অটো ব্রিক’, আরেকটা ব্লক ইট। এগুলোর উৎপাদন এবং ব্যবহার পর্যাপ্ত না করা পর্যন্ত ইট ভাটা বন্ধ করলে উন্নয়ন কাজ আটকে থাকবে।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তো কোনো দায় দায়িত্ব ছিল না, তারা নিজেদের মত করেছে। আমাদের নির্বাচিত সরকারের দায় দায়িত্ব আছে। জনগণের কাছে কমিটমেন্ট আছে। আমাদের তো কাজ করতেই হবে।”
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে রোপিত চারাগাছ ও সৃজন করা বন স্যাটেলাইটভিত্তিক, ডেটাবেজ ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন পরিবেশ মন্ত্রী।
সরকার পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিচ্ছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৫২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ১১২টি অবৈধ কারখানার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এছাড়া বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনএকিউএমপি) প্রণয়ন করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা তিনি বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাতদিন এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবার জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।
অন্যদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) সাইমুম পারভেজ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।