Published : 06 Aug 2024, 08:32 PM
সরকার পতনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের সব দূতাবাস।
মঙ্গলবার তাদের এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, “বাংলাদেশ ধর্মীয়, নৃতাত্ত্বিক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু উপসনালয় ও ব্যক্তির উপর বিভিন্ন হামলার খবরে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন।
“সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্র আন্দোলন এবং অন্যদের প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, সাম্প্রদায়িক হামলা পরিহার এবং সব বাংলাদেশির মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানাই।”
টানা সাড়ে ১৫ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তুমুল গণআন্দোলনের মধ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ৬০ দিন আগে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হওয়ার পর দেশজুড়ে সংঘাত আর তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যুর মধ্যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।
শেখ হাসিনার শাসন অবসানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে পরবর্তী নির্বাচনে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর জনতার উল্লাসের মধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সোমবারের দুপুরের পর থেকে গণভবন, সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় লুটপাট। এসময় বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ি, আওয়ামী লীগের একাধিক কার্যালয়, দেশের বিভিন্ন থানাসহ একাধিক স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতাকর্মীর বাসাবাড়িতে হামলা, পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে।
পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। সোমবার রাতের মধ্যেই অন্তত ২৯ জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার তথ্য দিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।