Published : 21 Jul 2026, 06:17 PM
প্রযুক্তির পরবর্তী বড় বিপ্লব আনতে ও সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের জন্য বিরল খনিজের বিকল্প খুঁজতে ২০০ কোটি পাউন্ডের এক ব্রিটিশ এআই স্টার্টআপে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও যুক্তরাজ্য সরকার।
প্রযুক্তির দুনিয়ায় পরবর্তী বড় বিপ্লব আনতে ও চিপ শিল্পের জন্য বিরল খনিজ পদার্থের বিকল্প খুঁজতে বিপুল বিনিয়োগ পেয়েছে যুক্তরাজ্যের এআই স্টার্টআপ ‘কাস্পএআই’।
কেমব্রিজভিত্তিক স্টার্টআপটিতে মোটা অংকের তহবিল জুগিয়েছেন বেজোস ও ব্রিটিশ সরকারের ‘সভেরিন এআই ফান্ড’। নতুন এ বিনিয়োগের পর কেবল দুই বছর বয়সি এ স্টার্টআপটির বাজারমূল্য ২৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
প্রযুক্তি খাতের আগামী দিনের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপটি ‘বিরল খনিজ পদার্থের সার্চ ইঞ্জিন’ হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, যা এআইয়ের সহায়তায় সম্পূর্ণ নতুন ধরনের উপাদান উদ্ভাবন ও তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে এরইমধ্যে ‘এআই ম্যাটিরিয়ালস ফাউন্ড্রি’ নামের এক শক্তিশালী জোটের যাত্রা শুরু করেছে ‘কাস্পএআই’। এ জোটে এনভিডিয়া, ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এবং গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি হুন্দাইসহ বিশ্বের ৪৮টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানি, শিল্প গ্রুপ ও গবেষণাাগার যোগ হয়েছে।
জোটের মূল উদ্দেশ্য, সবচেয়ে উন্নত ও সাধারণ কাজে ব্যবহারের উপযোগী সামনের সারির বিভিন্ন এআই মডেলকে কাজে লাগানো, যার মাধ্যমে এমন কিছু নতুন উপাদান বা ম্যাটিরিয়াল আবিষ্কার করা সম্ভব হবে, যা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ও ব্যাটারির কার্যসক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে এবং চিপের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। আর এগুলোই বর্তমান এআই বিপ্লবের মূল ভিত্তি।
‘কাস্পএআই’ তাদের এ প্রযুক্তির মাধ্যমে চিপ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চায়। চিপ তৈরির সাপ্লাই চেইনে ইরিডিয়াম ও রুথেনিয়ামের মতো যেসব বিরল ও মূল্যবান ধাতু ব্যবহৃত হয় সেগুলোর ব্যবহার কমিয়ে আনা বা পুরোপুরি বন্ধ করাই তাদের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নতুন উপাদান নিয়ে গবেষণার দীর্ঘ সময়কে নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনতে কাজ করবে এ এআই প্ল্যাটফর্ম।
এক যৌথ বিবৃতিতে ‘কাস্পএআই’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. চ্যাড এডওয়ার্ডস ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ আমস্টারডাম’-এর লার্নিং অ্যালগরিদম বিভাগের অধ্যাপক ম্যাক্স ওয়েলিং বলেছেন, “আমরা যদি দ্রুত উন্নতি করতে না পারি তবে আগামী ৫০ বছরের শিল্প অগ্রগতি চ্যালেঞ্জের মুখে আটকে যাবে। বিশ্বের এমন কিছু উপাদানের প্রয়োজন যা এখনও পৃথিবীতে অস্তিত্বশীলই নয়।
“আমরা এমন সমস্যারই সমাধান করতে নেমেছি, যেখানে সামনের সারির এজেনটিক এআইয়র সঙ্গে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এক্সক্লুসিভ ডেটা ব্যবহারের সুবিধা ও গ্রাহকদের সঙ্গে নিবিড় অংশীদারিত্বের সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে, বর্তমানে কেবল পরিচিত বিভিন্ন উপাদান দিয়ে বিশ্ব নিজের প্রয়োজনীয় প্রবৃদ্ধি আনা সম্ভব হবে না।”
স্টার্টআপটি বলেছে, ‘সিরিজ বি’ রাউন্ডের এ নতুন তহবিল তাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কার্যক্রম সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এর অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে নতুন এক কার্যালয় খোলা এবং কেমব্রিজ, আমস্টারডাম, বার্লিন, টোকিও ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হবে।
ভোক্তা তহবিলের এ সাম্প্রতিক রাউন্ডের যৌথ নেতৃত্বদানকারী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ‘ক্লাইনার পারকিন্স’-এর পার্টনার জশ কয়েন বলেছেন, “প্রযুক্তির বেশিরভাগ বড় উল্লম্ফনই কোনো না কোনো উপাদানের ওপর নির্ভর করে আসে। সাশ্রয়ী কার্বন ধারণ প্রযুক্তি থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর ও বিশুদ্ধ পানির পরবর্তী ধাপের বিভিন্ন অগ্রগতি আটকে আছে এমন কিছু উপাদানের অপেক্ষায়, যা কেউ এখনও উদ্ভাবনই করেনি। কাস্পএআই এমন সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেছে, যা এ দৃশ্যপট বদলে দেবে।”
গত বছর ‘সিরিজ এ’ রাউন্ডে ১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাওয়ার পর এই নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে নিজেদের মূলধন আরও শক্তিশালী করল কাস্পএআই।
যুক্তরাজ্যের ‘সভরিন এআই ফান্ড’ থেকে অর্থায়ন পাওয়া চতুর্থ কোম্পানি হিসেবে তালিকায় নাম লেখাল ‘কাস্পএআই’। বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের ব্রিটিশ বিভিন্ন এআই স্টার্টআপকে বড় করতে সাহায্য করাই সরকারের এ তহবিলের মূল লক্ষ্য। তবে এ বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ সরকার।
সাধারণত এ সভরিন এআই ফান্ড থেকে কোনো স্টার্টআপে ১০ লাখ থেকে ১০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত ইকুইটি বিনিয়োগ করা হয়। তবে এ তহবিল পাওয়ার কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম স্টার্টআপটির প্রধান কার্যালয় যুক্তরাজ্যে এবং এর প্রতিষ্ঠাতা বা প্রতিষ্ঠাতাদের ব্রিটিশ নাগরিক হতে হবে।
যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, “জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো যুক্তরাজ্য তথা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো ঠেকাতে এআইয়ের সক্ষমতাকে কাজে লাগাচ্ছে ‘কাস্পএআই’।
“এ ধরনের ব্রিটিশ কোম্পানির পাশে দাঁড়িয়ে আমরা এমন সব উদ্ভাবনের পথ তৈরি করছি, যা আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা, প্রকৃতিকে রক্ষা এবং সবার জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।”
আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে অ্যাপল ও গুগলের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী জন জিয়ানান্দ্রিয়াকে নিজেদের সঙ্গে যোগ করেছে কাস্পএআই। স্টার্টআপটির মার্কিন কার্যক্রম গুছিয়ে নিতে সাহায্য করছেন জিয়ানান্দ্রিয়া।
চিপ নির্মাতা কোম্পানি এএমডি’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ল্যাম রিসার্চের চেয়ারম্যান অভি তালওয়ালকারের সঙ্গেও কোম্পানিটি যৌথভাবে কাজ করছে।