Published : 18 Sep 2026, 08:12 PM
আগের সিরিজের সেরা খেলোয়াড়, কিন্তু এবার পুরো সিরিজ বেঞ্চে বসে কাটল বৈভাব সুরিয়াভানশির। ভারতের এই বিস্ময়-বালকের প্রতিভা নিয়ে তো কোনো সংশয় নেই। তবে দলটির প্রধান কোচ গৌতাম গাম্ভির স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, খেলার সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যানকে।
দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৩-০ ব্যবধানে জেতা টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের ইনিংস শুরুর দায়িত্বে ছিলেন আভিশেক শার্মা ও সাঞ্জু স্যামসন।
শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার ভারতের হয়ে দ্রুততম ৩০ বলে সেঞ্চুরি করা আভিশেক অনেক দিন ধরেই দলের প্রথম পছন্দের ওপেনার। তার সঙ্গে জুটি বাঁধার সুযোগ পাচ্ছেন কখনও সুরিয়াভানশি আবার কখনও স্যামসন।
গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন স্যামসন। জুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টিতে ও পরের মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও তিনি ব্যর্থ হন। এরপর বিশ্রামের নামে তাকে বাদ দেওয়া হয়। ইংলিশদের বিপক্ষে পরের তিনটি টি-টোয়েন্টিতে তার বদলে খেলেন সুরিয়াভানশি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর সিরিজটায় ভালো করতে পারেননি সুরিয়াভানশিও। সিরিজের শেষ ম্যাচে আবার তাকে বাইরে পাঠিয়ে স্যামসনকে খেলানো হয়।
এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে বিশ্রাম দেওয়া হয় স্যামসনকে। তিন ম্যাচেই আভিশেকের সঙ্গে ওপেন করে ১৯ বলে ৫০, ৯ বলে ২০ ও ৪৯ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন সুরিয়াভানশি, শেষ ম্যাচে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়ার পাশাপাশি ‘ম্যান অব দা সিরিজ’ও হন তিনি।
এবার আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের তিন ম্যাচেই সুরিয়াভানশিকে একাদশের বাইরে রেখে খেলানো হয় স্যামসনকে। প্রথম ম্যাচে স্যামসন ১০ রান করে আউট হলে তাকে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আবার। তবে পরের দুই ম্যাচে ২২ বলে ৫৭ ও ৩৫ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে জবাব দেন ৩১ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান।
শেষ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে গাম্ভির যা বললেন, তাতে নিকট ভবিষ্যতে স্যামসনের ওপরই বেশি আস্থা রাখার ইঙ্গিত মিলল।
“বৈভাবের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই স্পষ্ট- তাকে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তার মধ্যে কী ধরনের প্রতিভা আছে, তা আমরা জানি। সে কী করতে পারে, সেটাও আমাদের জানা। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, যে খেলোয়াড় বছরের পর বছর ধরে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসছে, সে স্বাভাবিকভাবেই সবেমাত্র দলে আসা একজনের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। যখনই সে (সুরিয়াভানশি) সুযোগ পাবে, তখন তাকেও দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।
“আর ভারতীয় ক্রিকেটের মূল বিষয় এটাই। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাই, ড্রেসিং রুমে সেই প্রতিভার উপস্থিতি চাই। কিন্তু কখনও কখনও ক্রিকেটে এমনটা হয়। বয়স ১৫ হোক বা ৩০, যখন সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তখন অপেক্ষা করতেই হবে।”