১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচন এইচএসসির আগে শেষ করতে ‘সবাই সম্মত’: ইসি সানাউল্লাহ

ইউপি নির্বাচন নিয়ে আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি নির্বাচন কমিশন, বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 06:39 PM

Updated : 17 Sep 2026, 06:39 PM

সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপির নির্বাচন এইচএসসি পরীক্ষার আগে শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ‘সবাই সম্মত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি এও বলেছেন, ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন-ইসি আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতামত পাওয়ার পর সাচিবিক কাজের সমন্বয় ও কমিশন সভায় আলোচনা করে ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ইসির অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

বেলা আড়াইটা থেকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক হয়। সেখানে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগ, দপ্তর, বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিকালে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে এসে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “আজকের সভায় সবাই একমত হয়েছেন-স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচন পারত পক্ষে ৬ জুনের আগে বা এইচএসসি পরীক্ষার আগে শেষ করতে হবে। সাইড লাইনের দুয়েকটা কাজ সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেব।”

গেল সোমবার ইসি প্রাথমিকভাবে সাত ধাপে নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সম্ভাব্য ভোটের দিন জানিয়েছে।

তারা নভেম্বরে ভোট শুরু করে মে মাসে শেষ করতে চায় সাড়ে চার হাজার ইউপির ভোট।

প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে-ভোট করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা বলেছিলাম এগুলো টেনটেটিভ টাইম, ১৭ সেপ্টেম্বরের মিটিংয়ের পরে চূড়ান্ত করব। আমরা সামান্যতম ওখান থেকে সরে আসিনি। আজকে যে তথ্য উপাত্ত পেয়েছি এটার পরে চূড়ান্ত করব।”

পরীক্ষার ফাঁকে ভোট

পাবলিক পরীক্ষার ফাঁকে, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের কার্যক্রম ব্যাহত না করে ইউপি নির্বাচন করার উপযুক্ত সময় খোঁজে পাওয়া ইসির জন্য কঠিন হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ থেকে যেসব মতামত এসেছে, তা পর্যালোচনা ও সমন্বয় করে কমিশন সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন আবুল ফজল সানাউল্লাহ।

Image

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিং করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, “পরীক্ষা যাতে ব্যাহত না হয়, শিক্ষকদেরও ভোটের কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণসহ এক সপ্তাহ সময় দিতে হবে। আমরা উপলব্ধি করেছি-বাজেট পরিকল্পনাসহ দুয়েকটা সাইড লাইন ওয়ার্ক করতে হবে; কো-অর্ডিনেশনের কাজ আছে। অতি শিগগিরই তা সম্পন্ন করতে হবে।”

এসব সমন্বয় কাজ সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে, বলেন এ নির্বাচন কমিশনার।

সামনে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি ও ইউপি নির্বাচন করতে হবে ইসিকে। এরমধ্যে এখন ইউপি নির্বাচন শুরু করতে হচ্ছে।

পরীক্ষা, রোজার সময়সূচির মাঝে ভোটের জন্য ফাঁকা সময় কম রয়েছে তুলে ধরে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “ইউপি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমাদের। (ভোটের জন্য) গ্যাপ কম পাওয়া গেছে। পুরো নভেম্বর-ডিসেম্বর জুড়ে পরীক্ষা। প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে আদৌ সম্ভব কিনা। আমরা জানুয়ারিতে সময় পাচ্ছি কিছুটা।”

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির ৭-৮ তারিখ রোজা শুরু; রোজা শেষ হওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এ পরীক্ষা হয়ে গেলে আবার ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

“মাঝখানে একটু সময় পাওয়া যাচ্ছে, স্পেসগুলো টাইট। এ টাইট স্পেসের মধ্যে কীভাবে সব অ্যাকুমোলেট করব। আরও সাইডলাইন ওয়ার্ক করতে হবে।”

ইউপি ভোট কবে শুরু? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসির

আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেন, সভায় ইসির যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

“আমরা এটা নিয়ে কমিশনও বসবে, ইসি সচিবালয়ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসবেন, সমন্বয় করবেন। তারপর চূড়ান্ত হবে। আমরা এখনও নির্বাচন কমিশন মিটিং করিনি; সব মতামতের আলোকে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।”

ভোট শুরু করার বিষয়ে ইসি তার প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে না আসার কথা বলেছেন তিনি।

তাহলে কি নভেম্বরে ভোট শুরু হবে? জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আমি কি একা এটা বলতে পারব? আরো দুয়েকটা সাইড লাইন ওয়ার্ক করব। উপাত্তগুলো নিয়ে বসব, তারপর নির্দিষ্ট করব।”