আইএমএফের চাপানো নয়, নিজেদের সংস্কার বাস্তবায়ন চায় সরকার: উপদেষ্টা তিতুমীর
বন্ধ প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফেরাতে ৭ শতাংশ প্রণোদনামূলক সুদে একটি উদ্ভাবনী পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিম নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার নয় বরং দেশজ কায়দায় সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় বলে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তার ভাষ্য, ‘উত্তরাধিকারসূত্রে’ পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং, রাজস্বসহ আর্থিক খাতের সমস্যা যেহেতু বিএনপি নিজেই চিহ্নিত করে তার নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করেছিল, তা বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আছে। তাই সেসব বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফেরও সহযোগিতা চাওয়া হবে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও তথ্য দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১২ অক্টোবর ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন। এতে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। প্রধান তিনটি সূচক ছিল- ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রাজস্ব আয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসা এবং অধিকাংশ ব্যাংকে তারল্য সংকট। এই তিনটি সংকট আমরা আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। অতীতে এটি আইএমএফের প্রোগ্রামের মধ্যে ছিল এবং তারা কতগুলো শর্তযুক্ত বিষয়ের মধ্যে রেখেছিল। এখন আমাদের যে অভ্যন্তরীণ কৌশলগুলো, সেগুলো নিয়েই আমরা অগ্রসর হচ্ছি।”
ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, “আগের সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ দেখান হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আবার এনবিএলের মত অনেক বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও বা এডিআরও ছিল অনেক বেশি।”
এছাড়াও আগে রাজনৈতিকভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করা হত। এখন সেই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাংক পরিচালনায় সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে তার ভাষ্য।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফেরাতে অর্থ ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ে ৭ শতাংশ প্রণোদনামূলক সুদে একটি উদ্ভাবনী পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিম নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি সরকার উত্তরাঞ্চল, নারী উদ্যোক্তা ও অবহেলিত অঞ্চলে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর আশা করছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা।
