বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা ‘নতুন দৃষ্টান্ত’ গড়তে পারে: অর্থ উপদেষ্টা
ইসলামাবাদে বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে ‘সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক’ স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এ অঞ্চলের জন্য ‘নতুন দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ইসলামাবাদে সোমবার সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের (এসডিপিআই) ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি একথা বলেন।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামাবাদের ওই অনুষ্ঠানে এ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র এবং রপ্তানি প্রবেশদ্বার হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে ‘সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক’ স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যা অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা তৈরি করে, প্রযুক্তি হস্তান্তর করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
“বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উৎপাদনের স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে জনবান্ধব টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
এর মাধ্যমে যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও বিগত সরকারের ‘দুঃশাসনের ফলে সৃষ্ট’ অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা।
চার দিনের এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স চত্বরে জাম গাছের চারা রোপণ করেন। হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ব বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, জ্বালানি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন।
বাংলাদেশ হাই কমিশন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবারের বৈঠকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী বলেন, “সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ করতে টিসিবি ও টিসিপির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনের ইতি ঘটলে দলটির সঙ্গে দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এ দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে ফের আলোর মুখ দেখবে- এমন আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি হতে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তান থেকে আসা সব পণ্য ‘লাল তালিকামুক্ত’ করে এনবিআর থেকে নির্দেশনা জারি করে। লাল তালিকায় থাকায় এর আগে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা সব পণ্যের চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হত। অর্থাৎ এসব পণ্য খালাস করার আগে একজন সহকারী কমিশনার বা উপকমিশনার কায়িক পরীক্ষায় করতেন।
পরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির সমঝোতা স্মারক সই হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই ২০২৫ সালের ২৯ জুন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বিএনপি সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিল।
