০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যবসা বাড়াতে ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনে সম্মত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া

সিউলে সফররত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

ব্যবসা বাড়াতে ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনে সম্মত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বৈঠক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 09:46 PM

Updated : 03 Nov 2026, 09:46 PM

‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনার পর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও কোরিয়া।

এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বসহ (পিপিপি) ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদারে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

সিউলে সফররত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং ইআরডি ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত ‘ওয়ার্কিং গ্রুপে’ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়িক চেম্বারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। গ্রুপটি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার, বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসা সহজ করা এবং পিপিপিসহ বেসরকারি খাতের কার্যকর সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া চিহ্নিত করবে।

অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিইপিএ আলোচনা শেষ হওয়ায় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

“আমাদের এখন সুযোগ রয়েছে প্রচলিত বস্ত্র ও তৈরি পোশাকনির্ভর অংশীদারিত্বের গণ্ডি পেরিয়ে কোরিয়ার সঙ্গে আরও বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।”

ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিল্পকে সহযোগিতার উদীয়মান ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। জ্বালানি, ওষুধ, মেডিকেল ডিভাইস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, আধুনিক উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো খাতেও কোরীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের কথাও কোরিয়াকে বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, ইলেকট্রনিক্স শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রম সহজ করার পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন।

এছাড়া কৌশলগত অবকাঠামো, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে জিটুজি ও পিপিপি মডেলের অধিক ব্যবহারের ওপরও তিনি জোর দেন।

সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কয়েকটি শীর্ষ কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হুন্দাই গ্লোভিসের প্রেসিডেন্ট লি কিউ-বক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় লজিস্টিকস, বন্দর উন্নয়ন ও অটোমোটিভ খাত প্রাধান্য পায়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা লজিস্টিকস হাব, বন্দর, অর্থনৈতিক ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইন এবং স্মার্ট লজিস্টিকসে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ এবং অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান হানওয়া ওশানের সঙ্গে বৈঠকে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত ও ড্রাই-ডকিং, সামুদ্রিক অবকাঠামো এবং ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) প্রকল্প নিয়ে কথা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ধাপে জাহাজ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও রেট্রোফিটিং দিয়ে শুরু করে পরে উচ্চমূল্য সংযোজিত জাহাজ নির্মাণ ও অন্যান্য সামুদ্রিক কার্যক্রম যাওয়ার ধাপে ধাপে পরিকল্পনার প্রস্তাব দেয়।

স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের প্রেসিডেন্ট কিম উ-জুন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।