গাবতলী-দাশেরকান্দি মেট্রোরেলের অর্থায়ন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা
সিউলে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের (এমআরটি লাইন-৫) অর্থায়ন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক (কেএক্সআইএম) চেয়ারম্যান ও সিইও হোয়াং কিয়নের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর মঙ্গলবারের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২৩–২০২৭ মেয়াদে ৩ বিলিয়ন ডলারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় ঢাকা এমআরটি লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার মত অগ্রাধিকার প্রকল্প উঠে আসে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুট প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
এর দেড়মাস পর সিউলে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে প্রকল্পটির অর্থায়নের বিষয়টি উঠে এল।
অর্থ মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ওই বৈঠকে কেএক্সআইএম জানায়, ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড বা ইডিসিএফের অগ্রাধিকার ‘বর্তমানে পর্যালোচনাধীন’। কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।
“বাংলাদেশ ইডিসিএফের অবশিষ্ট তহবিল ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সহনশীল সরবরাহ চেইনকে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছে।”
মঙ্গলবার কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, কেএক্সআইএম, কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গেও অর্থমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সেখানে ঋণ-সহায়তার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী অর্থায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ।
“কেআইসির সঙ্গে আলোচনায় অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে কোরিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি আনার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এক্ষেত্রে ১–২ বিলিয়ন ডলার আকারের প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সভরেইন ফান্ডকে’ একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ হিসেবে আলোচনা করা হয়।”
