২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নভেম্বরে না হলে কবে ইউপি নির্বাচন শুরু করবে ইসি

ভোটের তারিখ ঠিক করা নিয়ে সরকার-ইসির সমন্বয়ের ‘গ্যাপ’ নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম। স্থানীয় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইসির হাতে থাকার পক্ষে মত দেন তিনি।

নভেম্বরে না হলে কবে ইউপি নির্বাচন শুরু করবে ইসি

vote-bangladesh-election-high-turnout-120226

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 02:25 AM

Updated : 22 Sep 2026, 02:25 AM

স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধি নির্বাচনে নভেম্বরে ভোট শুরু করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিকল্পনা অনেকটা ঝুলে গেছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের মতামতের পরই। এখন ভোট কবে শুরু হবে সেই আলোচনা সামনে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবারের সেই বৈঠকে ১২ নভেম্বর ভোট শুরুর সম্ভাব্য তারিখের কথা তুলে ধরেন ইসির কর্মকর্তারা। শেষ ধাপের ভোট করার কথা ২৭ মে।

তবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষাসহ কয়েকটি পরীক্ষার সূচির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে। সেক্ষেত্রে ৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষ করার বিষয়ে ঐকমত্য আসে।

তাহলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কি ইউপি নির্বাচন শুরু করা হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। ১২ নভেম্বর ভোট শুরু হচ্ছে না-এটা নিশ্চিত। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর শেষ ধাপের ভোটের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে ৬ জুনের মধ্যে করতে। কিন্তু কবে ভোট শুরু করবো সেজন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত আরও তথ্য-উপাত্ত দিতে বলা হয়েছে। এসব কিছু বিশ্লেষণ, পযালোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরও সমন্বয় করা উচিত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের আরও সুনির্দিষ্ট করে পরীক্ষার তারিখের বিষয়গুলো জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

আরও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের অপেক্ষার মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর এবং ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ইসির কর্মসূচিও আপাতত স্থগিত হয়েছে।

সোমবার ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময় করার সূচি রয়েছে।

পরীক্ষার সময় ও ইসির সম্ভাব্য সময়

>> এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষা হবে ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর।

>> নির্বাচনি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।

>> ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ১৬ নভেম্বর শুরু হবে।

>> মাধ্যমিক স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলবে ১৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

>> জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চলবে ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

>> প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে (১ থেকে ১০ ডিসেম্বর)

এবং

>> প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা ২০ থেকে ২৩ ডিসেম্বর সময়ে হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের সম্ভাব্য সময় ছিল প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, ৩য় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, ৪র্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৫ম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ৭ম ধাপ ২৭ মে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “নভেম্বর-ডিসেম্বরে যে হচ্ছে না এটা আমরা ধারণা করতে পারি। অন্তত ডিসেম্বরের শেষ দিকেও ভোট শুরু করা যায় কিনা দেখি। যদি না পারা যায় সেক্ষেত্রে বছরের শুরুতেই ভোট শুরু হবে এটা নিশ্চিত। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যে কোনোদিন হতে পারে।

“তবে চূড়ান্ত কিছু হয়নি, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য উপাত্ত পেয়ে কমিশনে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

স্থানীয় ভোট বিলম্বিত হওয়া সঠিক নয়: বিশ্লেষক

ইসির কর্মপরিকল্পনা থাকলেও সরকারের সায় না পাওয়ায় যথাসময়ে ভোট শুরু করতে না পারাকে সাংবিধানিক ও আইনি দুর্বলতা থাকার বিষয়টিকে সামনে এনেছে বলে মনে করেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য আব্দুল আলীম।

এ নির্বাচন বিশ্লেষক মনে করেন, সম্ভাব্য সময় জানিয়ে ভোট শুরুর এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরও যথাসময়ে স্থানীয় সরকারের ভোট করতে না পারায় বোঝা যায় ইসি কতটা স্বাধীন। অবশ্য সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ এর ২ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন করা সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

এখানে বলা রয়েছে- নির্ধারিত দায়িত্বগুলোর অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এ সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে, নির্বাচন কমিশন সেরূপ দায়িত্ব পালন করবেন।

“ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। কিন্তু স্থানীয় সরকারের বাকি নির্বাচনের জন্য বিষয়টি অস্পষ্ট। এজন্য আমরা সংস্কার কমিশন থেকে প্রস্তাব করেছিলাম- জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্বের মত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব দায়িত্ব ইসির হাতে দেওয়ার জন্য। যাতে নির্বাচন কমিশন সব কিছু সিদ্ধান্ত দিতে পারে। কিছু সাংবিধানিক/আইনগত দুর্বলতার কারণে এ সমস্যা হয়েছে।”

নভেম্বরে ভোট শুরু করতে না পারায় বিলম্বে নির্বাচন করাও ঠিক হয়নি বলে মনে করেন আব্দুল আলীম।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এই সদস্য বলেন, “বিলম্বিত হওয়াটা ঠিক হয়নি। আলটিমেটলি সরকার, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় সরকার থেকে সেবা নিচ্ছে সাধারণ মানুষ, সার্ভিস দেয় ক্ষমতাসীন দল- এ এজেন্ডা স্থানীয় সরকার পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। কাজেই মানুষের সমস্যা, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন বিলম্ব হবে।”

স্থানীয় সরকারের সিটি, জেলা উপজেলা পরিষদে ভোট নেই ২০২৪ সাল থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।

ভোটের তারিখ চূড়ান্তে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের ‘গ্যাপ’ না হওয়াই ভালো বলে তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “সরকার-ইসির এ ধরনের গ্যাপ ভোটার, মানুষকে একটা নেতিবাচক বার্তা দেয়। কাজেই সতর্ক থাকা উচিত যে গ্যাপ না হয়। এ ইসির অধীনে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। সংসদ নির্বাচনের মত স্থানীয় নির্বাচনে সরকার সাপোর্ট দেয় তাহলে সামনেও ভালো নির্বাচন হবে আশা করি।”