Published : 16 Sep 2026, 11:05 AM
এমনিতেই দুজনের তুলনাই চলে না। প্রজন্ম, বয়স, অভিজ্ঞতা, ধরন, কোনো কিছুই দুজনকে পাশাপাশি রাখে না। তবে বাস্তবতাই গত কিছুদিনে মুখোমুাখ দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল সাঞ্জু স্যামসন ও বৈভাব সুরিয়াভানশিকে। অবশেষে বিধ্বংসী ফিফটির পর সেই আলোচনার জবাব দিলেন স্যামসন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের দিকেও আঙুল তুললেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার দিল্লিতে ২২ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন স্যামসন। এর আগের কিছুদিন তাকে নিয়ে ছিল বেশ আলোচনা-সমালোচনা।
যদিও কয়েক মাস আগে তা ছিল অকল্পনীয়। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের পথে তার শেষ তিনটি ইনিংস ছিল ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, ৪২ বলে ৮৯ ও ৪৬ বলে ৮৯। সেই ম্যাচ তিনটির প্রথমটি ছিল কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনাল, পরের দুটি সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল। বিশ্বকাপে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টও ছিলেন তিনিই।
বিশ্বকাপের পর ভারতের প্রথম সিরিজ ছিল গত জুনে আয়ারল্যান্ডে। সেখানে দুই ম্যাচে ৫ ও ০ করে আউট হন স্যামসন। অভাবনীয়ভাবে দুই ম্যাচেই হেরে যায় ভারত। দল নিয়ে সমালোচনার মধ্যে অনেকের চোখ পড়ে স্যামসনের দিকেও। সেটির একটি বড় কারণ, ততদিনে সুরিয়াভানশি নামক এক বালকের চমকপ্রদ আবির্ভাবে ভারতীয় ক্রিকেট তথা ক্রিকেট দুনিয়া মোহিত হয়ে পড়েছে।
স্যামসনকে বাদ দিয়ে সুরিয়াভানশিকে খেলানোর ডাক ওঠে তখনই। আয়ারল্যান্ড সফরের পরপরই ইংল্যান্ডেও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থ হন স্যামসন। এরপরই তার ওপর কোপ পড়ে। বিশ্রামের আড়ালে তাকে বাদ দেওয়া হয়। ইংলিশদের বিপক্ষে পরের তিনটি টি-টোয়েন্টিতে তার বদলে খেলেন সুরিয়াভানশি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর সিরিজটায় ভালো করতে পারেননি ১৫ বছর বয়সী তারকাও। সিরিজের শেষ ম্যাচে আবার তাকে বাইরে পাঠিয়ে স্যামসনকে খেলানো হয়। সেদিন ১৪ বলে ২৭ করেন স্যামসন।
এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে স্যামসন ছিলেন বিশ্রামে। তিন ম্যাচেই আভিশেক শার্মার সঙ্গে ওপেন করেন সুরিয়াভানশি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ঝলক দেখান। ১৯ বলে ৫০, ৯ বলে ২০ ও ৪৯ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন, শেষ ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যচ হওয়ার পাশাপাশি ম্যান অব দা সিরিজও হন।
এবার আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সুরিভানশিকে একাদশের বাইরে রেখে খেলানো হয় স্যামসনকে। সেই ম্যাচে তিনি আউট হন ১০ রানে। দল জিতলেও তার দিকে আঙুল তোলেন অনেকে। সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ কাইফ তো সরাসরিই সমালোচনা করেন সুরিয়াভানশিকে বাদ দিয়ে স্যামসনকে খেলানোয়।
দ্বিতীয় ম্যাচেও স্যামসনের ওপরই ভরসা রাখে দল। এবার তিনি জ্বলে ওঠেন। শুরুটা যদিও ছিল একটু মন্থর। চার ওভার শেষে তার রান ছিল ১০ বলে ৮। এরপর অসাধারণ সব শটের পসরায় পরের ১০ বলেই ৪৩ রান তুলে ফিফটি করে ফেলেন ২০ বলে।
ব্যাটে মতো এ দিন জ্বলে ওঠে তার মুখও। সুরিয়াভানশির সঙ্গে জায়গার লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হয় ম্যাচের পরে সংবাদ সম্মেলনে। স্যামসন বলেন, সুরিয়াভানশি-আভিশেকদের তিনি প্রতিদ্বন্দ্বির চোখে দেখেন না।
“আমার মনে হয়, ওরা (আভিশেক ও সুরিয়াভানশি) আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে অন্য কোনো জগতে! আমরা সবাই মিলে একটা দল এবং সবাই দেশের জন্য খেলছি। সবার আগে আমাদের চাওয়া থাকে ম্যাচ জেতা। এরপর নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো আসে।
আমরা তো মন খারাপ করে বা নেতিবাচক মানসিকতায় থেকে এটা ভাবতে পারি না যে, ‘আরে, আমি পেলাম না, ওকে কেন দিল!’ এই ধরনের মানসিকতা এখানে চলে না।”