Published : 13 Apr 2026, 01:00 PM
পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব।
এ বাহিনীর মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, “আমরা কোনো হুমকি বোধ করছি না।”
তবে নববর্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোনো গোষ্ঠী যেন কোনো ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকার কথা বলেছেন তিনি।
সোমবার ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র্যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, নববর্ষের ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ দেশব্যাপী র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করবে। অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা থাকবে।
এছাড়া ১৮১টি পিকাপ পেট্রোল টিম, ১২৭টি মোটর সাইকেল পেট্রোল টিমসহ সর্বমোট ৩০৮টি টহলটিম এবং সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যদের নরজদারি থাকবে।
ঢাকায় শাহবাগ, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বাংলা একাডেমি এবং রমনা বটমূলসহ যেসব স্থানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, সেসব স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ গ্রহণ করেছে বলে মহাপরিচালকের ভাষ্য।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “চেকপোস্ট, টহল এবং অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যাবের বম ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সুইপিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সুইপিং পরিচালনার পাশাপাশি বম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
বিশেষায়িত এই বাহিনীটির প্রধান বলেন, “যে কোনো ধরনের নাশকতা এবং হামলা মোকাবেলায় র্যাব স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে।”
এছাড়া র্যাব সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মহাপরিচালকের ভাষ্য, “গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার মনিটরিংসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে নববর্ষকে কেন্দ্র করে নাশকতার হুমকির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা নাস্যাৎ করে দিতে র্যাব প্রস্তুত রয়েছে।”
নববর্ষকে কেন্দ্র করে গুজব, উসকানিমূলক তথ্য বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কেউ যেন কোনো ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য র্যাব সাইবার মনিটরিং টিম নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।
এর বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসা নারীদের উত্ত্যক্ত করা বা যৌন হয়রানি রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন র্যাবের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
আহসান হাবীব পলাশ জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, “সার্বিক ঝুঁকি রয়েছে এমন কোনো তথ্য পেলে অথবা কোনো ধরনের হেনস্তার শিকার হলে অবশ্যই কর্তব্যরত র্যাব বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে জানাবেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা কঠোর হস্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ঢাকার শ্যামলীতে আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাত জনকে আটকের তথ্য দেন।
শনিবার কুষ্টিয়ায় এক ‘পীরকে’ মব করে হত্যার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা খোঁজখবর রাখছি। মামলা হলে অভিযুক্তদের নাম দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার ছায়াতদন্ত চলছে।”
রোববার ঢাকার মোহাম্মদপুরে ‘আধিপত্যের বিরোধে’ কিশোর গ্যাং 'এলেক্স গ্রুপের' হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে এলেক্স ইমনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।
এত মামলার আসামি কীভাবে বাইরে ছিল, সেই প্রশ্নে র্যাব মহাপরিচালক পাল্টা প্রশ্ন করেন– “দায় কি সব পুলিশ নেবে বা র্যাব নেবে?”
তিনি বলেন, “এই প্রশ্নের জবাব আমার কাছে খুঁজলে হবে না। আমি দায় নেবও না। আমার কাজ হচ্ছে যখন অপরাধ করবে, অপরাধী পেয়ে যাব তখন আমি তার গ্রেপ্তার করব। যার বিরুদ্ধে ১৮টা মামলা সে কীভাবে বাইরে থাকল সেই প্রশ্ন আপনি তাদেরকে করেন, তাহলে মনে হয় সঠিক জবাব পাবেন। আগে আটক হয়েছে বলেইতো তার বিরুদ্ধে ১৮টা মামলা।”