Published : 09 Jul 2025, 07:36 PM
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এই বৈঠকের পরই বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ একগুচ্ছ বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশন সভা ডেকেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট প্রস্তুতির মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ২৬ জুন বৈঠক হয়।
এরইমধ্যে সংস্কার কমিশনের ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ বিষয় নিয়ে বেশ তৎপরতা চলছে।
এ ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রথমবারের মত ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকও হল।
বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কমিশনের সাথে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে আশু করণীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়নে অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন বলেন, এ বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে ছিলেন।
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে বৈঠক অংশ নেন কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
যা নিয়ে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন ভবনে সিইসির সভাপতিত্বে অষ্টম কমিশন সভা হবে।
এ সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে- আরপিও (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর হলফনামা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা এবং বিবিধ বিষয়।
এ কমিশন সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে প্রথম ধাপে যে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে, সেগুলোর প্রতিবেদন জমা পড়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
এরপর মার্চ মাসে পাঁচটি সংস্কার কমিশনের ১২১টি সুপারিশকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ মনে করে এক ডজন মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের ৯টি সুপারিশ রয়েছে।
এ সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে আরপিও সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গণমাধ্যম নীতিমালা, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, হলফনামার খসড়া, ভোটার তালিকাকরণ (অভ্যন্তরীণ ও প্রবাসী), পোস্টাল ব্যালট, রাজনৈতিক ও নির্বাচনি অর্থায়নে স্বচ্ছতা এবং শুদ্ধাচার চর্চা নিশ্চিতকরণ।
সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ চলার মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের আভাস পাওয়া গেছে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পরে আসা যৌথ ঘোষণায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের আভাস দেওয়া হয়েছে।
পুরনো খবর:
আরপিও-আচরণবিধিতে কী সংস্কার চায় ইসি
আইন পর্যালোচনায় বসছে ইসি, নজর ঐকমত্য কমিশনের দিকে
সীমানা নির্ধারণ: বিশেষায়িত কমিটির অপেক্ষায় ইসি
আরপিও: আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব ইসির