Published : 30 Apr 2025, 10:40 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের কাছে সংস্কার কমিশনের ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
মার্চের মাঝামাঝি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্য থেকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো’ ‘অতি জরুরি ভিত্তিতে’ নির্ধারিত ছকে প্রস্তাব পাঠাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুরোধ করেছিল।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিবের কাছে এসব প্রস্তবনা পাঠানো হয়, যেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় নতুন সংযোজনসহ বেশ কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর মাধ্যমে আরপিওর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র্যাব, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ’ সংযোজন হবে।
সংজ্ঞায় ‘প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ’ যুক্ত করা হলে ভোটে সশস্ত্রবাহিনীকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে মোতায়েনের পথ প্রশস্ত হবে।
সরকারের সায় পেলে এর মধ্য দিয়ে ১৫ বছর পর আরপিওতে এ সংস্কার আসবে।
সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আরপিও সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে।”
ইসি কর্মকর্তারা বরেছেন, ২০০১ সালের আগে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো বিধান আরপিওতে ছিল না। তারপরও ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও জেলা-থানা-উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়।
২০০১ সালের এক অধ্যাদেশে নির্বাচনে ‘ল এনফোর্সিং এজেন্সির’ সংজ্ঞায় ‘ডিফেন্স সার্ভিস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে তা বাদ দেওয়া হয়।

আরপিওতে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার’ সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকায় নবম সংসদে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের মাধ্যমে সেনা মোতায়েন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯) আইনে কিছু কিছু এলাকায় ও চট্টগ্রামে সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত আইনে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ অন্তর্ভক্ত করা হয়নি।
গত তিনটি নির্বাচন কমিশন আরপিও সংস্কারে বারবার উদ্যোগ নিলেও ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার’ সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ যুক্তের সুপারিশ করেনি।
বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও সশস্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
বর্তমান এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন এবার নতুন করে সুপারিশ করেছে।
‘আশু বাস্তাবায়নযোগ্য’ সুপারিশগুলোর মধ্যে ইসি, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের নয়টি বিষয় রয়েছে।
এগুলো হল- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সংশোধন), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ (সংশোধন), নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ সংশোধন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গণমাধ্যম নীতিমালা (স্থানীয় ও আর্ন্তজাতিক) পর্যবেক্ষণ ও সাংবাদিক নীতিমালা (সংশোধন), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ সংশোধন, হলফনামার খসড়া, ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ (অভ্যন্তরীণ ও প্রবাসী), পোস্টাল ব্যালট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন এবং রাজনৈতিক ও নির্বাচনি অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার চর্চা নিশ্চিত করা।
সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে ইসির মতামতও তুলে ধরা হয়েছে।
আরপিও-আচরণবিধিতে কী সংস্কার চায় ইসি
বিতর্ক নিরসনে ইসির ভূমিকা চান সাবেক কমিশনার
ভোটে এবার ১৩ দিন সেনা মোতায়েন চায় ইসি