Published : 07 Jul 2026, 07:59 PM
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের মত অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
এতে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা লুকানোর মত জালিয়াতি ডিজিটাল কারসাজির আওতায় পড়বে।
এমন কারসাজির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ বিল পাসের ফলে বিদ্যমান আইনের আরও কয়েকটি ধারায় সাজার মেয়াদ কমছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে আগে যেখানে ১০ বছর বা সাত বছরের কারাদণ্ড ছিল, তা সংশোধন করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ শীর্ষক এ বিল পাস হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে এর ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
বিলে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা এবং পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্যের জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র বা পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে বা প্রবেশের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশনা, বিধি বা নির্দেশ অমান্য করলেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনের প্রশ্ন প্রকাশ, বিতরণ বা প্রচার সংক্রান্ত ধারায় ‘অনলাইন প্ল্যাটফর্ম’ যুক্ত করা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, কেউ প্রশ্ন বা সংশ্লিষ্ট বিষয় কোনো উপায়ে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ নিজের কাছে রাখলে, প্রকাশ করলে বা বিতরণ করলে শাস্তির আওতায় আসবে।
অপরদিকে যেকোনোভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল।
বিলে ‘সংগঠিত পরীক্ষা অপরাধ’ নামে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
এই ধারা অনুযায়ী, কোনো পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বা তার পক্ষে অন্য কারও সঙ্গে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি, সমঝোতা বা ব্যবস্থা করলে তা অপরাধ হবে।
এই অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রদানকারীর দায়ও বিলে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের সহায়তা, যোগসাজশ বা ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ডে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানকারী অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হবে।
প্রয়োজনে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা, লাইসেন্স স্থগিত বা কালো তালিকাভুক্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
বিলে উত্তরপত্রের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নকেও অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
কোনো পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা কম মূল্যায়ন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
তবে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি নির্ধারিত না হলে কাউকে এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।
বিলে শিশুদের বিষয়ে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো শিশু এই আইনের কোনো বিধানের সঙ্গে সংঘাতে এলে তাকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দেওয়া তথ্যদাতার সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। তাকে আইনি দায় ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার হাত থেকেও সুরক্ষা দেওয়া হবে।
এই সুরক্ষা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন অপরাধ আমলযোগ্য হবে।
মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কোনো আদালত এই আইনের অপরাধ বিচার করতে পারবে না।
এই আইনের অপরাধ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সমন মামলার সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হবে।