Published : 15 Nov 2025, 11:21 PM
পুরোদস্তুর শীতের অনেক আগেই বাজারে চলে এসেছে শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি; আগাম চাষ করা এসব সবজির সরবরাহ সহসাই ‘বাড়ছে না’, ফলে দামেও স্বস্তি মিলছে না।
আগেভাগে বাজারে আসা শিম বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকাতেও। সরবরাহ কিছুটা বাড়ার পর দাম কমতে কমতে গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় নেমে আসে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সেটি আবার বেড়ে শনিবার ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে দেশি জাতের শসা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়, শনিবার দামে বেড়ে তা ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এদিন ছোট আকারের ফুলকপি প্রতিটি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহের ৭০-৯০ টাকা কেজি দরের বেগুন শনিবার ৮০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বরবটির দাম ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
শনিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, কাজলা, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শীতকালীন সবজির স্বাদ নিতে ক্রেতারা বাজার ঘুরছেন। চাহিদা অনুযায়ী কিংবা পরিমাণে অল্প হলেও কিনে বাসায় ফিরছেন। কখনও আবার দাম নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে বচসায় জড়াচ্ছেন। শীতকালীন সবজির বাজার ঠান্ডা হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষার কথা বলছেন ক্রেতারা।
আর বিক্রেতারা বলছেন, দামের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই। আড়তে বেশি দামে কিনলে খুচরায়ও বেচতে হয় বেশি দরেই।
যাত্রাবাড়ীর পঞ্চায়েত বাজারের সবজি বিক্রেতা সোহেল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘শিম গত সপ্তায় ৮০ টাকা বেচলেও লাভ করেছি। এহন হঠাৎ কইরা দাম বাইড়া গেলে। এহন তো কাস্টমার (ক্রেতা) আমাগো দোষ দেয়। আমাগো তো কোনো কিছু করার নাই, আড়তে বেশি দাম রাখলে আমরার কী করার আছে।”
বাজারে মুলা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল আর পেঁপে ছাড়া বেশিরভাগ সবজিরই দাম বাড়তি। শনির আখাড়া কাঁচাবাজারের বিক্রেতা জামাল আহমেদ বলেন, এই সবজিগুলোর দাম বাড়ে নাই।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও পটল ৬০ টাকা আর পেঁপে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি দরে। শনিবার এই দামের কোনো পরিবর্তন নেই। তবে গত সপ্তাহের ৬০ টাকা কেজির মূলা শনিবার বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। ঢেঁড়শ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। বিভিন্ন আকারের লাউ বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়।
গত সপ্তাহের মত শনিবার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। ধনিয়া পাতা ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রেতা আলেপ মিয়ার সঙ্গে শনিবার দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় নুসরাত জাহান নামে এক নারীকে। বিক্রেতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘শীত শুরু হয়েছে, দাম বাড়বে কেন?’।
জবাবে আলেপা মিয়া বলেন, “সিডা তো (সেটা তো) আমারও প্রশ্ন, ক্যান দাম বাইড়বে। মাগো আমার তো কিছু করার নেই। আমি তো দাম বাড়াইনি।”
যাত্রাবাড়ীর বৌবাজারে সবজি কিনতে আসা হেমায়েত উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘হিসাবে তো শীত নামলে সবজি বেশি উঠবে। এবার মনে হয় আরও সময় লাগবে। মুলার দাম তো কমতে শুরু করেছে। সিম আর ফুল কপির দামও কমবে, একটু সময় লাগবে।”
কমেছে ডিমের দাম
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম হালিতে দুই টাকা কমেছে।
গত সপ্তাহে ৪৬ টাকা হালিতে লেয়ার মুরগির ডিম বিক্রি হলেও শনিবার তা বিক্রি হয়েছে ৪৪ টাকায়।
যাত্রাবাড়ীর ডিমের আড়ত ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাপ্লাই তো ভালো, তাই ডিমের বাজার কমে গেছে। এর তো কোনো ঠিক নাই ভাই। প্রতিদিন বাজার বদলায়।
“ডিমের দাম আগাম কেউ বলতে পারবে না। কখন দাম কোন দিকে যায় বলা যায় না।”

সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রির তথ্য দিয়ে সেখানকার ব্যবসায়ী নাসির সরকার বলেন, লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
শনিরআখড়ায় ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায় গরুর মাংস। সেখানকার কষাই ইদ্রিস মিয়া বলেন, “আগের সপ্তাহে ৮২০-৮৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ছোটো গরুর দাম বেশি।”
অবশ্য শনিরআখড়া থেকে কাছেই কাজলা এলাকায় গরুর মাংস ৭৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে শনিবার।
কাজলা এলাকার কসাই জুলহাস বলেন, “শুক্র ও শনিবার নতুন গরু জাবাই করি। এক দিনেই দুই-তিনটা গরু বিক্রি করি, তাই অল্প লাভেই সেল দেই।”
হঠাৎ করে বেড়েছে দেশি পেয়াঁজের দাম। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও শনিবার ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা দরে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১২০ টাকা।
অপরদিকে বাজারে শনিবার রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, ইলিশ ৮০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
যাত্রবাড়ীর বৌ বাজারের মাছ বিক্রেতা হারিছুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই সপ্তাহে এক কেজি চাষের তেলাপিয়ার দাম ১৩০ টাকা। পাঙাস মাছ বিক্রি করছেন ১৮০ টাকা দরে।”