Published : 08 Jul 2026, 10:38 PM
কুষ্টিয়ার মিরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট।
আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে।
মৃত্যুদণ্ড থেকে সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ওই আসামির নাম আজাদ মণ্ডল। ২০১৯ সালের ৮ মে কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সি মশিয়ার রহমান তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন।
হাই কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল এবং আল আমীন সিদ্দিকী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী জুলফিকার মতিন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারায় ২০১৬ সালের ১৮ মে আজাদ তার স্ত্রী তুলি খাতুনকে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়ির উঠান থেকে ৮/১০ হাত দূরে একটি আম গাছের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখে।
আজাদের কথায় বিশ্বাস করে তুলির বাবা ওইদিন মিরপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এরপর তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে এবং গলায় ফাঁস নেওয়ার ফলে সৃষ্ট চিহ্নের কথা জানায়। কিন্তু পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র।
“সেখানে দেখা যায়, ভিকটিমের গলার নিচের দিকে গোলাকৃতির একটি দাগ, দুই বাহুতে আঘাতের দাগ এবং কপালের বাম পাশে ১ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই একে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। এই মামলার রায়ে নিম্ন আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।”
শুনানির যুক্তিতর্ক প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “উচ্চ আদালতে শুনানির সময় বিচারক সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অমিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আমরা আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, এটি হত্যাকাণ্ড।”
আসামির দণ্ড হ্রাসের কমার কারণ ব্যাখ্যা করে ইমাম হাসান তারেক বলেন, “যেহেতু আসামির বয়স মাত্র ২৬ বছর এবং তার আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে হাই কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”