Published : 30 Aug 2025, 08:33 PM
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে লাঠিপেটার ঘটনাকে ‘নৃশংস’ হিসেবে তুলে ধরে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শনিবার সরকারের এক বিবৃবিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরের ওপর ‘হামলার’ ঘটনায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না এবং দ্রুত বিচার শেষ করা হবে।
সরকার বলেছে, “কেবল নুরের ওপরই নয়, এই ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরেও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মশাল মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
এরপর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন।
আহত অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর বলেছে, পুলিশ ‘সহযোগিতা’ চাওয়ায় দুই দলের সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা সম্পৃক্ত হন।
আইএসপিআর বলছে, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা অগ্রাহ্য’ হওয়ার পর সেনাবাহিনী সেখানে ‘মব ভায়োলেন্স’ ঠেকানোর জন্য বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।”
সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যের আহত হওয়ার কথাও জানানো হয় আইএসপিআরের তরফে।
নুরকে লাঠিপেটার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে এর বিচার সম্পন্ন করা হবে।”
‘তাৎক্ষণিকভাবে’ নুর এবং তার দলের অপর আহত সদস্যদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে।
২০১৮ সালে শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নুর ‘ঐতিহাসিক ভূমিকা’ পালন করেছিলেন তুলে বিবৃতিতে সরকার বলেছে, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন, বিভিন্ন মত ও কণ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিলেন।”
চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরকে গ্রেপ্তার এবং হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে সরকার বলেছে, “নুরের ভূমিকা একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমাদের জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তার সাহস ও আত্মত্যাগ চিরকাল আমাদের জাতির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।”
‘জনবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করতে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের বিবৃতিতে।
এতে বলা হয়, “এই সঙ্কটের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।
“আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।”
আগের খবর:
জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকারের সংঘর্ষ, ঢাকা মেডিকেলে নুর
নুরের ওপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে: প্রেস সচিব