১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন প্রজন্মই দেশকে এগিয়ে নেবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর

“আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”

নতুন প্রজন্মই দেশকে এগিয়ে নেবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: পিআইডি

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 05:34 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যখন আপনাদেরকে (নতুন উদ্যোক্তা) দেখলাম এবং গত দুটো ইভেন্টে ওই বাচ্চাগুলোকে দেখেছি, আজকে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই যে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছি একটু চেইঞ্জ করার জন্য, আমার মনে হল যে, হ্যাঁ, আমরা কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব, যারা আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, “দেশটাকে আপনারাই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশাটা, এই দৃঢ় আশাটা, এই বিশ্বাসটা রাখছি।”

সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তরুণদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন সরকারপ্রধান।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেখানো হয়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় প্রথম পর্বে চারজন উদ্যোক্তা নিজেদের যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। তারা হলেন— শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদিয়া হক; 'চর্চা'র প্রতিষ্ঠাতা রায়হানুল ইসলাম; রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা; কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'আই ফার্মার'-এর প্রধান নির্বাহী ফাহাদ ইফাজ।

অনুষ্ঠানে রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অনুদানের আবেদন জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব। দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন শিক্ষার্থী সেখানে অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান ও মেহরাব আনোয়ার; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল ইসলাম নাফিউ ও আসিফ আজাদ; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহিদ হোসেন; ইউনিভার্সিটি অব প্রফোশনালসের আদনান সাবাব আজাদ; মিলিটারি ইন্সটিটউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাফিসা তাসকিন জাহারা; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া তাহসিন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন এবং সরকারপ্রধান তার জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন উদ্যোক্তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

চর্চার নাফিস রায়হান, রেনোভা বায়োটেকের সাজিদুল ইসলাম এবং রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের লুৎফুন্নেসা মেঘনা ১০ লাখ টাকা করে পান।

এ ছাড়া ইন্টারভিউ বস এআই-এর শারমিন আখতার, বার্জ শিল্ডের নিশাদ জাহান এবং নিউজ ফিভারের এল. ধীরেন রায় ৫ লাখ টাকা করে পান।

'কারেক্ট' নামের একটি উদ্যোগকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা অনুদান।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্মারক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম (startup.ictd.gov.bd) উদ্বোধন করেন।

'সহজ নয়, কিন্তু সম্ভব'

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজ নয়। অসম্ভবও নয়।

“আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা আছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, কিছু করতে চাচ্ছেন, আপনাদেরকে একটা কথা আমি শুধু বলি, আপনারা যেটা করতে চাইছেন, ইটস টাফ, ইটস ভেরি ডিফিকাল্ট। কিন্তু আপনি পারবেন, যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।”

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আমার লাইফে আমি ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যাই। দুটো জিনিস একসাথে চলে না। কিন্তু বেঁচে থাকতে হবে। সেজন্য যতটুকু ব্যবসা করার প্রয়োজন ডিসেন্ট লাইফের জন্য, আমি ততটুকু করেছি। বাকি সময়টা আমি আমার রাজনীতির জন্য দিয়েছি। এখানেই আমি ঠিক করে নিয়েছি যে এখানে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

“এই এগিয়ে যেতে গিয়ে একটা মানুষকে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আমি গিয়েছি মানসিক নির্যাতন, আমি গিয়েছি শারীরিক নির্যাতন, বিভিন্ন রকম হিউমেলিয়েশন, বিভিন্ন রকম ফিজিক্যাল টর্চার, বিভিন্ন রকম যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আমি গিয়েছি। ধৈর্যের অনেক পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তারপরে আমি আজকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে একটা জায়গায় এসেছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদেরকে খুব সংক্ষেপে এটা বলার অর্থ হল, আপনাদেরকেও এরকম অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদেরকে এতটুকু বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমার সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি, আমরা আছি আপনাদের সাথে। আপনাদেরকে হেল্প করার জন্য, আপনাদেরকে পথ দেখানোর জন্য, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি।

“কতটুকু পারব আমি জানি না। বাট আমরা আছি। যতটুকু পারব, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদেরকে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

তবে সেজন্য তরুণ উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

'দেশের জন্য আপনাদের প্রয়োজন'

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে প্রয়োজন আপনার জন্য নয়, আপনাকে প্রয়োজন লক্ষ কোটি মানুষের জন্য, আপনাকে প্রয়োজন এই দেশের জন্য।”

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন উদ্ভাবন মেলা ও স্কুল পর্যায়ের আয়োজন ঘুরে দেখে দেশের নতুন প্রজন্মের সক্ষমতা সম্পর্কে তার আস্থা আরও বেড়েছে।

“আমি রাজনীতি করেই মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে যেতাম বা মাঝে মাঝে এখনো অনেক ক্ষেত্রে হতাশ লাগে। কিন্তু এই বাচ্চাগুলোকে দেখার পরে নিজেকে খুব কনফিডেন্ট মনে হয়েছে। আজকে যখন আপনাদের কতগুলো কাজ দেখলাম, আপনাদের কয়েকজনের বক্তব্য শুনলাম, তখন নিজের কনফিডেন্সটা আরো বেড়ে গেছে।”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।