Published : 14 Jul 2026, 03:17 PM
নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যখন আপনাদেরকে (নতুন উদ্যোক্তা) দেখলাম এবং গত দুটো ইভেন্টে ওই বাচ্চাগুলোকে দেখেছি, আজকে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই যে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছি একটু চেইঞ্জ করার জন্য, আমার মনে হল যে, হ্যাঁ, আমরা কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব, যারা আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, “দেশটাকে আপনারাই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশাটা, এই দৃঢ় আশাটা, এই বিশ্বাসটা রাখছি।”
সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তরুণদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেখানো হয়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় প্রথম পর্বে চারজন উদ্যোক্তা নিজেদের যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। তারা হলেন— শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদিয়া হক; 'চর্চা'র প্রতিষ্ঠাতা রায়হানুল ইসলাম; রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা; কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'আই ফার্মার'-এর প্রধান নির্বাহী ফাহাদ ইফাজ।
অনুষ্ঠানে রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অনুদানের আবেদন জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব। দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন শিক্ষার্থী সেখানে অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান ও মেহরাব আনোয়ার; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল ইসলাম নাফিউ ও আসিফ আজাদ; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহিদ হোসেন; ইউনিভার্সিটি অব প্রফোশনালসের আদনান সাবাব আজাদ; মিলিটারি ইন্সটিটউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাফিসা তাসকিন জাহারা; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া তাহসিন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন এবং সরকারপ্রধান তার জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন উদ্যোক্তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
চর্চার নাফিস রায়হান, রেনোভা বায়োটেকের সাজিদুল ইসলাম এবং রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের লুৎফুন্নেসা মেঘনা ১০ লাখ টাকা করে পান।
এ ছাড়া ইন্টারভিউ বস এআই-এর শারমিন আখতার, বার্জ শিল্ডের নিশাদ জাহান এবং নিউজ ফিভারের এল. ধীরেন রায় ৫ লাখ টাকা করে পান।
'কারেক্ট' নামের একটি উদ্যোগকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা অনুদান।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম (startup.ictd.gov.bd) উদ্বোধন করেন।